আব্দুল জব্বার কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত

প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২০ | আপডেট: ৭:২৪:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২০
আব্দুল জব্বার কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত

‘বাবা প্রতিদিন মাছ বিক্রি করে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা আয় করে। ওই টাকা দিয়ে আমাদের সংসার চলতে কষ্ট হয়। টাকার অভাবে ভাই বোন কেউ পড়ালেখা করতে পারেনি। আমার অনেক স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করবো। জানিনা অভাবের সংসারে আমার স্বপ্নগুলো নিয়ে কতদূর আগাতে পারি। করোনাকালীন সময় কলেজে অনলাইন ক্লাস চলছে কিন্তু টাকার অভাবে বাবা মোবাইল কিনে দিতে না পারায় ক্লাসগুলো করতে পারছি না।’

এ কষ্টের কথাগুলো বলেন, ২০২০ সালে এস.এস.সি পরীক্ষায় গংগাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে জিপিএ ৫ সহ টেলেন্টেপুলে বৃত্তি পাওয়া তানিয়া আক্তার।

তানিয়া গংগাপুর ৭নং ওয়ার্ডের মাছ বিক্রেতা নসু বেপারীর মেয়ে। ওরা চার ভাই বোন। সকলের ছোট তানিয়া। বাবার অভাব অনটনের কারনে কেউ পড়াশুনা করতে পারেনি। তানিয়াও ঠিকমত প্রাইভেট ও স্কুলে ফি দিতে পারতো না। অনেক কষ্ট করে এসএসসি বাণিজ্য বিভাগ হতে জিপিএ ৫ সহ টেলেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে সহপাঠিদের অভাক করে দিয়েছে। খুবই মেধাবী একজন ছাত্রী। তানিয়া বোরহানউদ্দিন সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়াশুনা করছেন। করোনাকালীন সময় কলেজে নিয়মিত অনলাইন ক্লাস হচ্ছে কিন্তু একটি মোবাইলের কারণে সে নিয়মিত ক্লাস গুলো করতে পারছে না। এতে তার শিক্ষাজীবন নিয়ে খুবই চিন্তায় রয়েছে। দারিদ্রতার কারনে এখনও একাদশ শ্রেণীর কোন বই কিনতে পারেনি।

তার বাবাকে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেয়ার কথা বললে সে মেয়েকে কোন উত্তর দিতে পারেনি। নিজে সারাদিন মাছ বিক্রি করে কোন দিন টাকা পায় আবার কোন দিন খালি হাতে বাড়ীতে ফিরে। দার দেনা করে কোন রকম সংসার চালায়। বাবার এ কষ্ট দেখে ছোট ছেলেটি পড়াশুনা না করে হোটেলে বয়ের কাজ করেন। বড় ছেলে বিয়ে করে অন্যত্র থাকেন। মেধাবী এ শিক্ষার্থীর আকাশ ছোয়া উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নগুলো পূরণ হবে তো? না অভাবের কারনে শিক্ষা জীবন হতে সিটকে পড়বে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে এ ছাত্রী । তার এ উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নগুলো পূরণ করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী ভাবে আর্থিক সহায়তা পেলে সে স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারবে আশা প্রকাশ করেন।

তানিয়া আক্তারের প্রতিবেশী মো. সুজন হাওলাদার জানান, গরীব ঘরে অনেক মেধাবী একটি মেয়ের জন্ম হয়েছে। কোন প্রাইভেট পরতে পারে নি। ঠিকমত বই কিনতে পারে নি। তারপরও আমাদের সন্তানদের থেকে অনেক ভালো রেজাল্ট করেছে। উচ্চ শিক্ষার জন্য তার আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন না হলে এ মেধাবী শিক্ষার্থী সামনের দিকে পড়াশুনা করতে পারবে না। তাই সরকারি বা বেসরকারী ভাবে তাকে সহযোগিতা করতে পারলে তার উচ্চ শিক্ষা আর কোন বাধা থাকবে না বলেও তিনি বিশ্বাস করেন।

তানিয়া আক্তারের মা বিলকিছ বেগম বলেন, অভাবের সংসারের কারনে কোন ছেলে মেয়ে কে পড়াশুনা করাতে পারিনি। আমার স্বামী বাজারে বসে মাছ বিক্রি করে সামান্য টাকা পায়। তা দিয়ে আমাদের সংসারের খরচ চালাতে কষ্ট হয়। দার দেনা করে সংসার চালায়। আমার এ মেয়েটি অনেক কষ্টে খেয়ে না খেয়ে পড়াশুনা করছে। শুনছি আমার মেয়ে নাকি ভালো ছাত্রী। ও অনেক পড়াশুনা করতে চায়। কিন্তু আমরা কিভাবে ওর পড়াশুনার খরচ চালাবো। আজ অনেক দিন মেয়েটি অনলাইন ক্লাস করার জন্য ওর বাবার কাছে একটি মোবাইল চায়। কিন্তু টাকার অভাবে কিনে দিতে পারছে না। মনে মনে আমার স্বামী অনেক কষ্ট পেয়েছে।

এ ব্যাপারে গংগাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র দে, তানিয়া খুবই মেধাবী একজন ছাত্রী। ওর বাবা একজন সামান্য মাছ বিক্রেতা। অভাবের কারনে যাতে এ শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবন হতে সিটকে না পড়ে। এ গরিব, অসহায় মেধাবী মেয়েটির উচ্চ শিক্ষার লক্ষে সার্বিক সহযোগিতার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ করছি।

বোরহানউদ্দিন সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজ এর অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম গজনবী জানান, তানিয়া খুবই মেধাবী ছাত্রী। ওর বাবা গরিব মানুষ। আমি সব সময় ওর খোঁজ খবর নেই। যাহাতে পড়াশুনায় কোন রকম অসুবিধা না হয়। তিনি আরোও জানান, এ ছাত্রী’র স্বপ্ন পূরণ করতে কলেজ হতে সকল রকম সুযোগ সুবিধা দিতে আমি অঙ্গীকার বদ্ধ।