চরফ্যাসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালিত

আমিনুল ইসলাম আমিনুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ | আপডেট: ৬:১০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০
চরফ্যাসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালিত

ভোলার চরফ্যাসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে।

সোমবার (২৮সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় চরফ্যাসন ব্রজগোপাল টাউনহলে এ জন্মদিন পালন করা হয়।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপনের আয়োজন করেন চরফ্যাসন উপজেলা আওয়ামীলীগ।

এসময় কেক কাটা, শেখ হাসিনার বর্ণাঢ্য জীবনী সম্পর্কে আলোচনা, অসহায় গরীব মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ ও দোয়া মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে চরফ্যাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন আখন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ভিপি, পৌর মেয়র বাদল কৃষ্ণ দেবনাথ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক জামাল উদ্দিন মহাজন, পৌর আওয়ামী লীগ ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনির আহমেদ শুভ্র ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্ণাঢ্য জীবনী সম্পর্কে বলেন, তিনি পূর্ব পাকিস্তানের টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসার কোল জুড়ে জন্মগ্রহণ করেন৷ টুঙ্গিপাড়াতে বাল্যশিক্ষা শেষ করে ১৯৫৪ সাল থেকে তিনি ঢাকায় পরিবারের সাথে মোগলটুলির রজনী বোস লেনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে স্থানান্তরিত হন। ১৯৫৬ সালে শেখ হাসিনা টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে থাকা শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি আজিমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করার পর পারিবারিক সম্মতিতে ১৯৬৭ সালে এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পড়াশোনার জন্য পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান নেন৷ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ও তার বোন শেখ রেহানা বাদে পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করা হয়। তাদের সংসারে সজীব ওয়াজেদ জয় (পুত্র) ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (কন্যা) নামে দুই সন্তান রয়েছেন।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মজীবন সম্পর্কে বক্তারা বলেন, তিনি ১৯৮১ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন৷ তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ ও ১৯৯১-১৯৯৫ পর্যন্ত বিরোধী দলের নেতা এবং ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন৷ ২০০৮ সালে জনগণের বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসেন। তিনি ২০১৪ সাল ও ২০১৮ সালেও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত, ফোর্বস সাময়িকীর দৃষ্টিতে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ২০১৮ সালে তার অবস্থান ছিল ২৬তম৷ এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ফরেইন পলিসি নামক সাময়িকীর করা বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০০ বৈশ্বিক চিন্তাবিদদের তালিকায় শেখ হাসিনা জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি বিশ্ব নারী নেত্রী পরিষদ-এর একজন সদস্য, যা বর্তমান ও প্রাক্তন নারী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীদের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক। রাজনীতির বাইরে লেখক হিসেবে শেখ হাসিনার অবদান রয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি রচনা ও সম্পাদনা করেছেন প্রায় ৩০টি গ্রন্থ।