তজুমদ্দিনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য জালিয়াতির অভিযোগ

প্রকাশিত: ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০১৯ | আপডেট: ১১:৩১:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০১৯
তজুমদ্দিনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য জালিয়াতির অভিযোগ

ভোলার তজুমদ্দিনে শশীগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য স্কুল থেকে একজন শিক্ষককে তার স্কুলে ডেপুটেশনে আনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই শিক্ষকের ডেপুটেশন বাতিল চেয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন সুরাহা পায়নি। জালজালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষক ডেপুটেশনের সমস্ত ফাইলও শিক্ষা অফিস থেকে গায়েব করে ফেলেন ওই প্রধান শিক্ষক।

সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫৪নং পশ্চিম শম্ভুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। জাতীয়করণ হওয়ার পর থেকে ওই বিদ্যালয়ে ৪জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছে। কিন্তু ২০১৯ ইং সালের ফেব্রুয়ারী মাসে শশীগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরহাদ হোসেন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে শম্ভুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভূয়া রিটার্ণ বানিয়ে ৫ জন শিক্ষক দেখিয়ে শিক্ষক মাহাবুব আলমকে ডেপুটেশনে আনার জন্য আবেদন করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসে।

তৎকালীন শিক্ষা অফিসার আতিকুল ইসলাম বিষয়টি সঠিকভাবে যাচাই-বাচাই না করেই মাহাবুবকে ডেপুটেশন দেয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে একটি সুপারিশ পাঠান। তার সুপারিশ অনুযায়ী জেলা শিক্ষা অফিস মাহাবুব আলমকে ডেপুটেশন দিলে পশ্চিম শম্ভুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল ওহাব ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ তারিখে ওই শিক্ষকের ডেপুটেশন বাতিল চেয়ে একটি আবেদন করেন। আবেদনের পর ৫ মাস ফেরিয়ে গেলেও ডেপুটেশন বাতিলের কোন আদেশ পায়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ।

এরইমধ্যে শিক্ষা অফিসার আতিকুল ইসলামের যোগসাজসে সুচতুর প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরহাদ হোসেন শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষক ডেপুটেশনে নেয়ার সমস্ত ফাইল গায়েব করে ফেলেন। যার কারণে নব যোগদানকৃত উপজেলা শিক্ষা অফিসা নুরুল ইসলাম কোন তথ্য দিতে পারেননি এই সংবাদদাতাকে।

বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে ১০৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। যেখানে সরকারী নীতিমালা রয়েছে কোন বিদ্যালয়ে ৫জনের কম শিক্ষক কর্মরত থাকলে সেই বিদ্যালয় থেকে ডেপুটেশনতো দেয়া যাবেই না বদলিও করা যাবে না। অথচয় শিক্ষক ফরহাদ হোসেন সরকারী নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গালু দেখিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ৪জন শিক্ষক থেকে ১ জনকে তার বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে নিয়ে আসেন।

জানতে চাইলে পশ্চিম শম্ভুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ ইব্রাহিম, আল আমিন, ফাবিয়া বেগম ও মোঃ ইফাদ বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ৪জন স্যার থেকে মাহাবুব স্যারকে অন্য স্কুলে নেয়ায় আমাদের পাঠদানে খুব সমস্যা হচ্ছে।

পশ্চিম শম্ভুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি’র সভাপতি আব্দুল ওহাব বলেন, প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন আমার স্কুলের ভূয়া রিটার্ণ বানিয়ে মাহাবুব স্যারকে ডেপুটেশনে নিয়ে যাওয়ার সংবাদ শুনে প্রথমে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে মৌখিকভাবে জানাই। তারপর জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেও কোন সুরাহা পাইনি। আমি প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেনের জাল-জালিয়াতির বিচারদাবী করছি এবং মাহাবুব স্যারের ডেপুটেশন বাতিল চাই।

প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর বলেন, এই বিদ্যালয়ে কখনো ৫জন শিক্ষক ছিলেন না। প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন কাগজপত্র জালিয়াতি করে ৪জন শিক্ষক থেকে একজনকে ডেপুটেশনে নেন যা সরকারী নিয়ম বর্হিভূত।

জানতে চাইলে জাল জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া শশীগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরহাদ হোসেন বলেন, আমার স্কুলে শিক্ষক দরকার আমি ৫জন কেন ১০ কর্মরত দেখিয়ে শিক্ষক ডেপুটেশনের আবেদন করতে পারি। কিন্তু তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসার কিভাবে ডেপুটেশন দিয়েছেন সেটা তারা জানে আমার জানা নেই। ফাইল গায়েবের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আফিসে ফাইল জমা দিয়েছি অফিস থেকে ফাইল কি হয়েছে তা অফিস বলতে পারবে।

সরকারী নিয়ম বর্হিভূতভাবে ডেপুটেশন দেয়ার বিষয়ে জানতে তৎকালী শিক্ষা অফিসার মোঃ আতিকুল ইসলামের ব্যবহৃত ০১৭১৬৩১৫২৫৬ নম্বরে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া যায়নি।

নব যোগদানকৃত উপজেলা শিক্ষা অফিসা নুরুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক মাহাবুবের ডেপুটেশনের একটি ফাইল শিক্ষা অফিসে থাকার কথা। যেহেতু কোন ফাইল নেই সেহেতু তৎকালীন শিক্ষা অফিসার ও প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন এবিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র হালদার বলেন, কোন শিক্ষক যদি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে তথ্য গোপন করে শিক্ষককে ডেপুটেশনে নেন তদন্ত করে তা প্রমাণ হলে ওই শিক্ষককের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।