চরফ্যাসন হাসপাতালে চিকিৎসকের আগে দালাল এসে হাজির!

আমিনুল ইসলাম আমিনুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ | আপডেট: ১২:০৫:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০
চরফ্যাসন হাসপাতালে চিকিৎসকের আগে দালাল এসে হাজির!

ভোলার চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার আসার পূর্বেই হাসপাতাল সংলগ্ন ঔষধের দোকানের দালাল চক্র এসে হাজির। তাদের খপ্পরে পড়ে অতিরিক্ত মূল্যে ঔষধ কিনতে হয় রোগীকে। এমন প্রতারণার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ।

সোমবার (১৪সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেখা যায়, চরফ্যাসন উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যানবাহনে করে রোগী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আসা মাত্র দালাল এসে হাজির। তারা প্রথমে রোগীকে ধরাধরি করে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। এরপর রেজিস্টার মেইন্টেন, ডাক্তার দেখানো, এমনকি ভর্তি হলে সিট পাইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

স্বাভাবিকভাবে এমন আচরণ দেখে দালালদের প্রতি সহানুভূতি জন্মায় রোগীর সাথে আসা আত্মীয়-স্বজনের। হাসপাতাল থেকে ব্যবস্থাপত্র দেয়ার পর দালাল চক্র কৌশলে বলেন, এখানে আমার আত্মিয়ের দোকান আছে, কম মূল্যে কিনে দিতে পারব, টাকা পরে দিলেও হবে, ঔষধ কিনলে কিনতে পারেন। রোগীর আত্মীয় তার সহানুভূতির কথা চিন্তা করে ঔষধ কিনতে চলে যান দালালের নির্দিষ্ট দোকানে। শুরু হয় গলাকাটা মূল্যে ঔষধ বিক্রি।

অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, সরকারি হাসপাতাল থেকে যে সকল ঔষধ বা প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী যেমন-কটন, হেক্সিসল, সিরিঞ্জ, নরমাল স্যালাইন, সিজার, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি ফ্রী দেয়ার কথা, কিন্তু রোগীর ব্যবস্থাপত্রে এসব আনতে বলা হয়। পরে এসকল সামগ্রী জরুরি বিভাগের কর্মকর্তাগণ সে দোকানেই ফেরত দিয়ে টাকা আনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী চরফ্যাসন পৌরসভা ১নং ওয়ার্ডের মোঃ ইউসুফ বলেন, আমার স্ত্রী অসুস্থ হওয়ার পর চরফ্যাসন হাসপাতলে ভর্তি করি। প্রথম থেকেই এক দালালের প্ররোচনায় হাসপাতালের পূর্ব পাশের এক দোকান থেকে ঔষধ ক্রয় করি। তিন দিন থাকার পর সকল হিসাব-নিকাশ করে দোকানের টাকা পরিশোধ করি। প্রয়োজনে একই ঔষধ চরফ্যাসন সদর রোড ফ্রেন্ডস মেডিকেল থেকে ক্রয় করলে দেখা যায়, প্রতি পিস ৮ টাকার ঔষধ ১৮ টাকা, ১৪টাকার ঔষধ ৩৫ টাকা করে রেখেছেন, হাসপাতাল সংলগ্ন দালালের দোকানদার। হিসাব করে দেখলাম সর্বমোট ২হাজার ৩শ টাকা অতিরিক্ত রেখেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চরফ্যাসন সরকারি হাসপাতালের কর্মরত এক ডাক্তার বলেন, এ দালাল চক্রকে হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী সহযোগিতা করেন। এক মাস পূর্বে দালাল চক্রের দুই সদস্য হাসপাতালে ভর্তি খালাকে দেখতে আসা ১২ বছরের কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। সে মামলা এখনো চলমান।

চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচও শোভন বসাক চরফ্যাসন নিউজ কে জানান, দালালমুক্ত হাসপাতালের জন্য গেটপাস, ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। আমরা সংশ্লিষ্টদের দালাল প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। হাসপাতালের কেউ জড়িত থাকলে প্রমাণসহ অভিযোগ করলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।