ভোলায় নমুনা পরীক্ষায় জট, করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা

প্রকাশিত: ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০ | আপডেট: ১১:০৮:পূর্বাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০
ভোলায় নমুনা পরীক্ষায় জট, করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা

ভোলায় করোনা সন্দেহভাজন রোগীদের দেয়া নমুনা পরীক্ষায় জট লেগেছে।

গত ১০ দিনে জেলায় করোনা সন্দেহভাজন ৭৩৫ জন রোগীর সংগ্রহিত নমুনার রির্পোট পাঠানো হয়েছে। গত ১৫ই জুনে ৪৩ জনের নমুনা পাঠানো হলেও তাদেরে রির্পোটও এখনো আসেনি। এতে করে দিন যতো যাচ্ছে রির্পোট না পাওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। ঢাকা ও বরিশাল ল্যাবে নমুনা পাঠানো হলেও তার রির্পোট না আসায় সন্দেহভাজন ও আক্রান্ত রোগীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। একদিকে যেমন মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে ২৫০ শয্যা ভোলার জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, রোগী ও স্বজনদের সাথে আলাপকালে জানাযায়, ভোলায় পিসিআর ল্যাব চালু না হওয়ায় করোনা উপসর্গ সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করা হলেও নমুনা পরীক্ষার জন্য জেলার বাইরে ঢাকা বা বরিশাল পাঠাতে হয়। এতে করে রির্পোট পেতে সময় লাগছে আট থেকে দশ দিন। রির্পোট আসতে বিলম্ব হওয়ায় নমুনা দেয়া ব্যক্তিরা করোনায় আক্রান্ত কিনা স্বল্প সময়ে জানতে পারছে না। নমুনা দেয়া ব্যক্তিরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন যত্রতত্র। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির সংর্স্পশে আসা ব্যাক্তি নিজে যেমন সংক্রমিত হচ্ছে তেমনি অন্যদেরও সংক্রমিত করছেন। এতে ভোলায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সংখ্যা।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র অনুয়ায়ী, ১৫ই জুন থেকে ২৪শে জুন পর্যন্ত গত ১০ দিনে ভোলায় সংগ্রহ করা ৭৩৫ জনের নমুনা ঢাকা ও বরিশাল ল্যাবে রির্পোটের জন্য অপেক্ষমান আছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ভোলা থেকে ৩ হাজার ৩৪৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা ও বরিশাল ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। নমুনার রিপোর্ট এসেছে ২ হাজার ৬১০ জনের। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২১ জনের নমুনার রিপোর্ট নেগেটিভ আসলেও ১৮৯ জনের পজেটিভ আসে।

করোনা যুদ্ধে জয়ী ভোলা শহরের ঔষধ ব্যবসায়ী নান্টু কর্মকার জানান, তিনি দুই দফা নমুনা দেয়ার ১৫ দিন পরে নমুনার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। নমুনা পজেটিভ আসার দিন সকালেও তিনি তার কর্মস্থলে ছিলেন। একয়দিনে তার সংস্পর্শে আসছে অনেকেই। এরপর কোন উপসর্গ না থাকলেও তাকে আরো ১৫ দিন হোম আইসোলেশনে থাকতে হয়। এতে করে একদিকে যেনম সংক্রমন ছড়িয়েছে পাশাপাশি ৩০ দিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে ওই ব্যক্তির।

অপরদিকে নাসির মাঝি এলাকার বাসিন্দা কামরুন্নাহার জানান, তার ছোট ভাইয়ের করোনা উপসর্গ থাকায় গত ১৬ই জুন ভোলা ভোলা জেনারেল হাসপাতালে নমুনা দিয়ে আসেন। কিন্তু তার ফলাফল না পাওয়ায় তিনি কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি।

শুধু এই দুই জন নয়, এমন ভোগান্তির শিকার শত শত মানুষ। ফলে নতুন করে নমুনা নেয়ার ক্ষেত্রে একদিকে যেমন অনাগ্রহ দেখাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ পাশাপাশি নমুনা দেয়ার ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষ আগ্রহ হারাচ্ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র আরো জানায়, ভোলায় করোনা আক্রান্ত ১৮৯ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬২ জন। এর মধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত ৮৩ জনের মধ্যে সুস্থ ৩১ জন। তার মধ্যে ভোলা পৌর এলাকায় আক্রান্ত হয়েছে এ পর্যন্ত সর্বাধিক ৫৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫ জন। দৌলতখানে আক্রান্ত ১৮ জনের মধ্যে সুস্থ ২ জন। বোরহানউদ্দিনে আক্রান্ত ২৪ জনের মধ্যে সুস্থ ৪ জন। লালমোহনে আক্রান্ত ২০ জনের মধ্যে সুস্থ ৪ জন। চরফ্যাসনে আক্রান্ত ২৬ জনের মধ্যে সুস্থ ১১, মনপুরা উপজেলায় আক্রান্ত ৯ জনের মধ্যে সুস্থ ৭ এবং তজুমদ্দিন উপজেলায় আক্রান্ত ৯ জনের মধ্যে সুস্থ ২ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে ৩ জন ভোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে আছে। বাকিরা নিজ নিজ উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে হোম আইসোলেশনে আছেন। এছাড়াও করোনা আক্রান্ত হয়ে লালমোহন, চরফ্যাসন ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদের মধ্যে জেলা জজ ও তার স্ত্রী, চরফ্যাসন ও দৌলতখান উপজেলার দুই চেয়ারম্যান, ৮ জন চিকিৎসক, ১৮ স্বাস্থ্যকর্মী, কর্মকর্তাসহ পুলিশের ৯ সদস্য, ৮ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ব্যাংক কর্মকর্তা ১০ জন ও ১২ জন শিক্ষক রয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ নির্বাচন কর্যালয়ের ২ জন, সিভিল সার্জন কর্যালয়ে ২ জন ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক জন রয়েছে।

এ ব্যাপারে ভোলা সিভিল সার্জন ডা: রতন কুমার ঢালী জানান, ঢাকা ও বরিশালে ল্যাবে ধারন ক্ষমতার বেশী নমুনা প্রতিদিন জমা হচ্ছে। তাই রির্পোট আসতে ৫/৭ দিন লেগে যাচ্ছে। তবে ভোলা সদর হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব শীঘ্রই চালু হলে এ সমস্যা দূর হবে। সূত্রঃ ডিবিসি নিউজ