পরিবারের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দিতে খোলা চিঠি!

প্রকাশিত: ৯:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২০ | আপডেট: ৯:৫২:অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২০
পরিবারের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দিতে খোলা চিঠি!

সুপার সাইক্লোন আম্পানের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে খুলনার সুন্দরবন উপকূলীয় উপজেলা কয়রার মানুষ। একদিকে আম্পানের ক্ষত অন্যদিকে মহমারী করোনা ভাইরাসে স্থবির হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা।

এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে দিশেহারা হয়ে পরেছেন কয়রা উপজেলা ৯নং মহারাজপুর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা সালাম গাজী। তিনি পেশায় দিনমজুর। অবশ্য তার (সালাম গাজী) সাথে পরিচয় না থাকলেও তার ছেলে জাহিদ হাসান এর সাথে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। সে ‘ভোলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ এ ‘ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি’ তে অধ্যায়নরত ছিল। অবসর সময়ে তার পারিবারিক অনেক বিষয় আমার সাথে শেয়ার করত। তখন আর্থিক সহযোগীতা না করতে পারলেও তাকে উৎসাহ দিতাম মনোবল জোগাতে। আজ হঠাৎ আমার ফেসবুকের ইনবক্স ওপেন করতেই চোখে ভেসে উঠে জাহিদের পরিবারের অসহায়ত্বের গল্প।

যেভাবে আমার ফেসবুকের ইনবক্সে লেখাটি পাঠিয়েছে সেভাবে সবার উদ্দেশ্যে তুলে ধরলাম।

‘আমি মোঃ জাহিদ হাসান। আমার পড়াশোনা ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। আমার বড় বোন ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাস্টার্সে। আর ছোট বোন শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্রী। আমার বাবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি পেশায় দিনমজুর। দশতালা বিল্ডিংয়ে ইট উঠায়। দিন শেষে সামান্য মজুরী পায়। মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে পরিশ্রমী ব্যক্তি আমার বাবা। বড় বোন ও আমার টিউশন ফি আর বাবার দৈনিক আয়ে কোনভাবে আমাদের জীবিকা ও পড়া লেখার ব্যয় নির্বাহ। তিন ভাই বোনের পড়া লেখার ব্যয় নির্বাহ খুব কঠিন হয়ে পড়ে মাঝে মাঝে। করোনা ভাইরাসের প্রার্দূভাবে আমাদের ভার্সিটি বন্ধ হওয়ায় আমরা ভাই-বোন এই মুহূর্তে গ্রামে নিজ বাসায় অবস্থান করছি। বাসায় অবস্থান করার প্রেক্ষিতে আমাদের টিউশুনি বন্ধ হয়েছে বেশ কয়েকমাস আগে। সুতরাং বোন আর আমার টিউশুনি থেকে সীমিত উপার্জনও বন্ধ।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে যেখানে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না সেখানে বাবা নামক মানুষটি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কিছুদিন দিনমজুরি দিতে পারলেও বর্তমানে খুলনা রেড জোনে থাকায় তার উপার্জনের সব পথ বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে ঘুর্নিঝড় আম্ফানে কয়রা এলাকায় নদীর বাঁধ ভাঙনে আমার চারিপাশ তলানিতে। এমতাবস্থায় বাহিরে যাওয়া ও খুব কষ্ট সাধ্য।

এদিকে আমরা পরিবার-পরিজন চরম খাদ্য সংকটে পড়েছি। খাদ্য সংকটে মায়ের চোখে মুখে ও হতাশার ছাপ। অন্যদিকে যা কিছু আর্থিক অনুদান বা সাহায্য আসছে সেগুলোও ইউপি সদস্যর অনুকুলে। সেগুলো তার প্রিয়জনদের সুবিধার্থে ব্যয় হচ্ছে। আমাদের মতো নিম্নবিত্ত মানুষের কপালে এখন অদেখা অদৃষ্টের পরিহাসের ছাপ ছাড়া আর কিছুই নয়। সামনের দিনগুলোতে হয়তো দু’বেলা দু’মুঠো খাওয়া দূঃসাধ্য হতে পারে আমাদের জন্য। হয়তো কারো কাছে কিছু চাইতে না পারাটা মধ্যবিত্তের বড় সমস্যা।

ত্রাণ দানে ফটোশুটের জন্য সাহায্য না নিয়ে বাবা কে পিছিয়ে আসতে দেখছি। জানি না সামনের দিনগুলোতে আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে। যখন দেখি ঘরে খাবার নাই আমার পরিবারের মানুষের মুখগুলো শুকনা, তখনি নিজেকে বড্ড বোঝা মনে হয় এই সমাজ সংসারে। ইদানিং বাবা তার পরিবার-পরিজন এর মুখে দু-মুঠো দেওয়ার জন্য নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে এই মহামারী উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ছে। যা সন্তান হিসেবে নিজের কাছে নিজেকে অভিশপ্ত মনে হচ্ছে। পৃথিবী তুমি সুস্থ হও। মহামারী তুমি আমায় পরিত্রান দাও। বিধাতা তুমি আমাদের সহায় হও।’

বিঃদ্রঃ সম্ভব হলে এ পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সামর্থ্যানুযায়ী সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন।

মোঃ জাহিদ হাসান।

৯নং মহারাজপুর ইউনিয়ন, কয়রা, খুলনা।

মোবাইলঃ ০১৯২৮-০৯৬৪৪০