‘কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করুন’

প্রকাশিত: ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ, জুন ২, ২০২০ | আপডেট: ১১:৫৭:পূর্বাহ্ণ, জুন ২, ২০২০
‘কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করুন’

কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করুন এবং নিজেই সমাজ গড়ুন। প্রতিটি পরিবারে যদি একজন করে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়, তাহলে সে তার পরিবার ও সমাজকে বদলাতে পারবে।

আমাদের এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে যদি আমরা কর্মক্ষম করতে না পারি তাহলে আমাদের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলাতে স্কিল বেইজ পড়াশোনা করা জরুরি, যেটা হাতে কলমে শিক্ষা। এটাই টেকনিক্যাল এডুকেশন দিচ্ছে।

টেকনিক্যাল এডুকেশনে যতগুলো ট্রেড আছে এর যে কোনো ট্রেডে যদি এক একজন পারফেক্ট শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে তাহলে নিশ্চিত যে পাস করে বের হয়ে আসার পর যদি তার অদম্য সাহস থাকে তাহলে সে তাকে গড়ার লক্ষ্যে নিজেই কোনো ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে সমাজের পাশে দাঁড়াতে পারবে।

আর যদি তার চাকুরীটাই মূখ্য হয় তাহলে তার যেমনি লোকাল মার্কেটে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে অনেক সুবিধা আছে তেমনি গ্লোবাল মার্কেটেও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা আছে।

আমরা একটু নজর করলেই দেখতে পাই তুলনামূলক টেকনিক্যাল শিক্ষায় শিক্ষিতরাই এগিয়ে রয়েছে, বেকার নাই বললেই চলে। আমি যেটা মনে করি টেকনিক্যাল শিক্ষাটাই একটা জাতির উন্নয়নে মূখ্য বিষয় হওয়া উচিত। এ ধরনের শিক্ষার প্রধান শর্ত পরিশ্রম, একাগ্রতা ও যথার্থ অনুশীলন। বুদ্ধি অপেক্ষা মন এখানে বড় ভূমিকা নেয়। মেধার সঙ্গে একাগ্রতা ও নিষ্ঠা এই বিশেষ শিক্ষা পদ্ধতির প্রধান পরিপোষক। কারিগরি শিক্ষার প্রধান সাফল্য তার ব্যবহারিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে। এ শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের পরবর্তী জীবনে নির্দিষ্ট কোন কারিগরি বিষয়ে দক্ষ করে তোলা। নিজ নিজ উদ্যোগে স্থানীয় ছোট ছোট শিল্পের প্রসার ঘটানো। স্বাধীনভাবে পছন্দ অনুযায়ী বৃত্তি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদকে প্রকৃষ্টভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা।

অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ এত উন্নতি করেছে আজ টেকনিক্যাল এডুকেশনের উপর জোর দেওয়ার কারনে।

আমি এসএসসি ও সমমান পাসকৃত সকল শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের প্রতি বলবো, এখনই ভাবতে হবে। আমি নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চাই। সিদ্ধান্ত নিতে হবে এখনই। যে অনিশ্চিতের আশায় থাকবো নাকি নিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে নিজেকে নিয়োজিত করবো।

সাধারণত শিক্ষা থেকে পাস করার পর অনেকেই রয়েছে যারা নিজেরাই বলতে পারছে না তারা কোন বিষয়ে এক্সপার্ট? আর কারিগরি শিক্ষায় আপনি এক একটি বিষয়ে এক্সপার্ট হয়েই বের হচ্ছেন, যা আপনার ভবিষ্যৎ গড়তে নিশ্চিত সহায়ক। তাই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সমাজ, রাষ্ট্রকে সুবিধা দিতে ও বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই।

বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে উন্নত দেশে উন্নীত করার লক্ষে দীর্ঘমেয়াদী কর্ম পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিভিন্ন সেক্টরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার বিষয়েও বাংলাদেশ সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে। কর্মদক্ষ জনগোষ্ঠি, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিনির্মাণসহ নানা বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও বাংলাদেশে বৃত্তিমূলক কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্র ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। দেশে প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যাালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, প্রকৌশল ইনস্টিটিউট, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, লেদার টেকনোলজি কলেজ, গ্রাফিক্স আর্ট ইনস্টিটিউট ইত্যাদির মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত কারিগরি প্রতিষ্ঠান দেশে প্রতিনিয়ত হয়েছে ও হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি বাংলাদেশ সরকারকে কারিগরি শিক্ষার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য।

চরফ্যাসন নিউজের একান্ত সাক্ষাৎকারে ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্লানিং এন্ড কনসালটেন্ট লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও “চরফ্যাসন উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন” এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাকসুদুর রহমান কারিগরি শিক্ষা অর্জনে সফলতা তুলে ধরে এসব কথা বলেন। তিনি কারিগরি শিক্ষা অর্জনে আগ্রহী অসহায়, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহযোগীতা করবেন বলেও আশ্বাস দেন।