ঈদের আগে চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

প্রকাশিত: ৬:৫৯ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২০ | আপডেট: ৬:৫৯:অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২০
ঈদের আগে চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এবং ঈদকে সামনে রেখে এবার সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল ঠেকাতে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কোনোভাবেই সাধারণ মানুষ যাতে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় চলাচল করতে না পারে সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে গণপরিবহন চালু করার বিষয়ে পরিবহন মালিকরা আবেদন করলেও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এবার সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল নিষিদ্ধ করে আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটির সময়ে সড়কপথে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল এবং অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মহাসড়কে মালবাহী ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন ব্যতীত অন্যান্য যানবাহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, সাধারণ ছুটি এবং চলাচল নিষেধাজ্ঞাকালে এক জেলা থেকে অন্য জেলা বা এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এ নিয়ন্ত্রণ সতর্কভাবে বাস্তবায়ন করবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধকল্পে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (প্রয়োজনীয় কেনাকাটা, ওষুধ কেনা, চিকিৎসা নেওয়া, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার করা, ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে আসা যাবে না। সাধারণ ছুটি/নিষেধাজ্ঞাকালে সড়কপথে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল এবং অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে। মহাসড়কে মালবাহী/জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন ব্যতীত অন্যান্য যানবাহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আপাতত ঈদের আগে লঞ্চ না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে নৌযান মালিকরাও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঈদের আগে নৌযান চালাবেন না। তবে অনুমতি পেলে বাস মালিকরা তাদের বাস চালাতে রাজি থাকলেও এখন বলছেন, যেহেতু সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণপরিবহন চলবে না, তারাও সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে এ সময় গণপরিবহন চালাবেন না। এমনটি জানিয়েছেন বাস মালিক সমিতির নেতারা।

এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, যেহেতু আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাধারণ ছুটিকালীন জনসাধারণের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, সেহেতু গণপরিবহন চলার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার নেতারা বলেছেন, দেশের এ অবস্থায় লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। কারণ, একদিকে দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, অপরদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চালানোও কঠিন। লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ঈদের আগে লঞ্চ চলছে না, এটি আমাদের আগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কারণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চালানো সম্ভব না। এ ছাড়াও সরকারি আদেশে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রাখার কথা বলেছে, সাধারণ মানুষকে এক জেলা থেকে অন্য জেলায়, এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যেতে বারণ করা হয়েছে। তাই ঈদের আগে কোনোভাবেই লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত আমরা নেবো না।’

অপরদিকে বাস মালিকরা জানিয়েছেন, তারা গাড়ি চালাতে চান। এ জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদনও করেছিলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথাবার্তাও বলেছেন। সরকারের অনুমতি যেহেতু পাওয়া যায়নি, সেহেতু তারা গাড়ি চালাবেন না। যদিও তাদের প্রস্তুতি ছিল ঈদের আগে বাস চালু করার।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন, ‘আমরা সরকারের অনুমতি পেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ওই মুহূর্ত থেকেই গাড়ি চালাতে রাজি ছিলাম। এ বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতিও ছিল। এ জন্য আমরা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ আলোচনাও করছিলাম। কিন্তু সরকার গণপরিবহন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এ কারণে আমরাও সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত। আমরা গাড়ি চালাচ্ছি না।’

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘ঈদের আগে আপাতত কোনও ধরনের নৌযান চালানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়াও সরকার সাধারণ ছুটিকালীন মানুষের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।’

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, সেহেতু সরকার সব ধরনের যাত্রী পরিবহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সেহেতু রেল চলছে না।

এদিকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘দেশে লকডাউন চলছে। চলছে সাধারণ ছুটি। এ ছুটি ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ সময় এক জেলা থেকে অন্য জেলা এবং এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। সেহেতু বাস চালানোর অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এ ছাড়াও সরকারি আদেশে সব ধরনের যাত্রীবাহী যানবাহন বন্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ থেকে বাস, লঞ্চ, ট্রেনসহ সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ আছে।