ক্ষেপণাস্ত্রে বিমান বিধ্বস্ত, ইরানের স্বীকারোক্তি

প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২০ | আপডেট: ৮:১১:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২০
ক্ষেপণাস্ত্রে বিমান বিধ্বস্ত, ইরানের স্বীকারোক্তি

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই যে ইউক্রেনের সেই যাত্রীবাহী বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা অবশেষে স্বীকার করে নিয়েছে তেহরান। ইরানের সামরিক দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই বিধ্বস্ত হয়েছিলো ইউক্রেনের সেই যাত্রীবাহী বিমানটি। তবে সেটা ছিলো তাদের ‘অনিচ্ছাকৃত’ ভুল। এর আগে ইরান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে বারবার দাবি করে আসছিলো।

গত বুধবার ইরান যখন ইরাকের মার্কিন ঘাঁটি দুটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এর অল্পসময় পরেই তেহরানে বিধ্বস্ত হয় ওই বিমানটি। এতে বিমানের ১৭৬ জন যাত্রীর সবাই প্রাণ হারায়।

শনিবার ইরানের সামরিক দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই বিধ্বস্ত হয়েছিলো ইউক্রেনের সেই বিমানটি। তবে তারা ইচ্ছা করে এতে অঅঘাত করেনি। সেটা ছিলো তাদের ‘অনিচ্ছাকৃত’ ভুল।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিমানটি ইরানের রেভুলেশনারি গার্ডের অন্তর্গত একটি সংবেদনশীল সাইটের কাছে চলে আসার পরই এতে আঘাত করা হয়।ইরানের ভাষায় এটি ছিলো একটি ‘মানবিক ত্রুটি’। তারা এ ঘটনার দায় নিতে রাজি আছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

গত বুধবার ইরান যখন ইরাকের মার্কিন ঘাঁটি দুটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এর অল্পসময় পরেই তেহরানে বিধ্বস্ত হয় ওই বিমানটি। এতে বিমানের ১৭৬ জন যাত্রীর সবাই প্রাণ হারায়। এ সম্পর্কে এক বিবৃতিতে ইরান জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং এটি বিধ্বস্ত হয়।

তবে শুরু থেকেই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দাবি করে আসছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন পশ্চিমা নেতারা। কানাডা বলেছিলো, সম্ভবত মার্কিন জঙ্গিবিমান ভেবে ইরান এটিকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে।

তবে ইরান ওই দাবি অগ্রাহ্য করে দেয়। এমনকি তারা এই বিমানের ব্ল্যাক বক্স যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বোয়িংকে দেবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেয়।

কিন্তু বৃহস্পতিবার ওই বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ভিডিও প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’। ১০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে কোনও একটা বস্তুর আঘাতে বিমানটিতে আগুন ধরে যেতে দেখা যাচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পরই প্রচণ্ড শব্দে এটি বিষ্ফোরিত হয়।

ওই সংবাদ মাধ্যমের দাবি তেহরান বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরই এতে কিছু একটা আঘাত হানে। এতে বিমানটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। ওই অবস্থায় পাইলট বিমানটিকে আবার তেহরানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু কয়েক মিনিট পরই এটি বিষ্ফোরিত হয়ে সব যাত্রী ও ক্রু নিহত হন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় ওই ভিডিও নিয়ে শুক্রবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হয়। এরপরই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওই বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে নিলো তেহরান।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার ইরাকের দুটি মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এর অল্প সময় পরেই তেহরানের খামেনি বিমানবন্দরের কাছে ইউক্রেন এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। দুর্ঘটনার সময় ওই বোয়িং ৭৩৭ বিমানটিতে ১৭৬ আরোহীর সবাই মারা যান। যদিও প্রথম এই ঘটনায় ১৮০ আরোহী নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিলো।

এই বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কেননা শুরু থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন পশ্চিমা নেতারা এই বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় তেহরানের হাত রয়েছে বলে দাবি করে আসছিলেন। এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত দাবি করেছিলেন কানাডার প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডো।

ইউক্রেন এয়ারলাইন্সের ওই বিমানটিতে কানাডার ৬৩ জন নাগরিক ছিল। তাদের ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ হয়ে টরন্টো যাবার কথা ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনায় তারা সবাই নিহত হয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি