ইরাকে ফের মার্কিন বিমান হামলা, নিহত ৬

প্রকাশিত: ১২:৫৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২০ | আপডেট: ১২:৫৬:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২০
ইরাকে ফের মার্কিন বিমান হামলা, নিহত ৬

বাগদাদ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে ইরানের এলিট বাহিনী কুদসের প্রধান কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার মাত্র একদিন পরই ইরাকে ফের বিমান হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা।

শনিবার ভোরে রাজধানী বাগদাদের উত্তরের তাজি এলাকায় আল শাবির একটি ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র ফের বিমান হামলা করলে গোষ্ঠীটির এক শীর্ষ কমান্ডারসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বাগদাদে সেনা কর্মকর্তাদের বহনকারী দুটি কনভয় লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে পরিচিত কাসেম সোলেইমানি নিহত হন। সোলেইমানির সঙ্গে পিএমইউ বা হাশেদ আল-শাবির উপপ্রধান আবু মাহদি আল মুহান্দিস নিহত হন। ওই হামলায় সব মিলিয়ে আটজন নিহত হন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ হামলার দায় স্বীকার করেছেন।

সোলেইমানি হত্যার পর শুক্রবার সকালে এক টুইটারবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ’নেয়ার হুমকি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনি। এই হুমকির পরই ইরাকে ফের বিমান হামলা চালালো মার্কিন সেনারা।

গত এক সপ্তাহ ধরে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলা চলছে। গত ২৭ ডিসেম্বর ইরাকের কিরকুকে এক সামরিক কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে কমপক্ষে ৩০টি রকেট হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় এক মার্কিন ঠিকাদার নিহত এবং আরো বেশ কিছু মার্কিন ও ইরাকি সেনা আহত হয়। এই হামলার জবাবে গত রোববার (২৯ ডিসেম্বর) ইরানপন্থী আধা সামরিক বাহিনী পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটের (পিএমইউ) ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়ে ২৫ জনকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় আরো ৫৫ জন আহত হয়।

এই হামলার প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার বাগদাদের গ্রিনে জোনে অবিস্থিতমার্কিন দূতাবাসের ওপর চড়াও হয় পিএমই ‘র সমর্থকরা। এক পর্যায়ে দূতাবাসের প্রধান ফটক ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা দূতাবাসের সামনের অংশে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অবশ্য গত বুধবার নেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দূতাবাসের অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষোভকারী।

দূতাবাসে হামলার জবাবেই গত বৃহস্পতিবার বাগদাদ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে ইরানি কমান্ডার সোলেইমানিকে হত্যা করলো যুক্তরাষ্ট্র। জানা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই তারা এ হামলা চালিয়েছিলো।