সৈকতে উদ্ধার ৬ মরদেহ চরফ্যাসনের নিখোঁজ জেলেদের

প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৩৮:অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯
সৈকতে উদ্ধার ৬ মরদেহ চরফ্যাসনের নিখোঁজ জেলেদের

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে উদ্ধার হওয়া ৬ মরদেহ বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ট্রলারসহ নিখোঁজ ভোলার চরফ্যাসনের জেলেদের বলে জানা গেছে। এসময় তাদের বহনকারী ফিশিং ট্রলারটিও ঢেউয়ের তোড়ে বালিয়াড়িতে এসে আটকে গেছে।

সৈকতের সী-গাল পয়েন্টে বুধবার ভোররাত সাড়ে ৩টায় বালিয়াড়ি থেকে ৪টি ও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ট্রলারের ভেতর মেশিনের পাশ থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. খায়রুজ্জামান জানান, রাতে ঢেউয়ের তোড়ে একটি ট্রলার সৈকতের বালিয়াড়িতে উঠে আসে। এর পাশাপাশি কয়েকটি মরদেহও তীরে ভেসে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ সী-গাল পয়েন্টে গিয়ে চারটি মরদেহ উদ্ধার করে আনে। বালিয়াড়িতে আটকে যাওয়া ফিশিং ট্রলারে ভেতর থেকে সকালে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, এদিকে একই ট্রলার থেকে ছিটকে পড়া অপর দুজনকে সৈকতের শৈবাল পয়েন্ট থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া মাঝির নাম মনির (৪২)। তিনি ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার মাদ্রাজ ইউনিয়নের বাসিন্দা মকবুল সর্দারের ছেলে। অপরজন নৌকার মালিক ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৩২)। তাদের দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

উদ্ধার হবার পর জুয়েল আবছাভাবে জানায়, তারা ১৫ জন গত ৭ জুলাই ভোলা থেকে ট্রলার নিয়ে মাছ শিকারে বের হয়। বৈরী আবহাওয়ায় পড়ে তাদের ট্রলারটি ডুবে গেছে এতটুকু তার মনে আছে। এরপর তারা কোথায় গেছে, কী অবস্থা হয়েছে তার কিছুই মনে নেই। হাসপাতালে নেয়ার পর এখনও পুরোপুরি তাদের জ্ঞান ফিরেনি। আর মরদেহগুলো বিকৃত হয়ে যাওয়ায় কোনটা কার মরদেহ তা শনাক্ত করা যায়নি বলেও জানান ওসি।

Cox-Fishing-Boat

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসা জুয়েলের ফুফাতো ভাই মো. মাসুদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার চরফ্যাসন সামরাজঘাট থেকে তারা ট্রলারটি নিয়ে সমুদ্রে যায়। ওই দিনই তারা ঝড়ের কবলে পড়ে। শুক্রবার ও শনিবার তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ ছিল। এরপর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কক্সবাজার ফিশারিজ এলাকায় আমাদের এক আত্মীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে তার পরিচয় নিশ্চিত হই। কিন্তু অন্যদের চেহরা বিকৃত হওয়ায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

ভোলা চরফ্যাসন থানা পুলিশ ও সেখানকার স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি খায়রুজ্জামান জানায়, ভোলার চরফ্যাসন থানার মাদ্রাজ ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর, তার ভায়রা বেলায়েত ও ওয়াজ উদ্দিনের যৌথ মালিকানাদীন ট্রলারটি নিয়ে ৭ জুলাই ১৫ মাঝিমাল্লাসহ মাছ ধরতে বের হন। ট্রলারে মো. মনির মাঝি (৫০), মো. জুয়েল (৩৩) জিহাদ হোসেন (২৫), মাকসুদ (২৮), সেলিম (৩২), বাবুল (৩৫), অলিউদ্দিন (২৭), বেলায়েত হোসেন (৩৮), অজিউল্লা (২৭), কামাল (২৬), জাহাঙ্গির (৩৪) এবং তছিরসহ (৩৩) আরও তিনজন ছিলেন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসা মনির মাঝির ফুফাতো ভাই মো. নুর হোসেন বলেন, নৌকায় মোট ১৫ জন জেলে ছিল। সেখানে আমার মামাতো ভাই মকছুদসহ তিন নিকট আত্মীয় ছিল। এদের মধ্যে শুধু মনিরের সন্ধান পেয়েছি। অন্যদের কোনো খবর জানি না। তাদের হারিয়ে পরিবারের মাঝে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা চলছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, আমরা জেনেছি, কয়েকদিন আগে চরফ্যাসন এলাকার মনির মাঝিসহ তিনজনের মালিকানাধীন ট্রলারটি মাছ শিকারে বেরিয়েছিল। কিন্তু মরদেহের সঙ্গে সৈকতের বালিয়াড়িতে উঠে আসা ট্রলারে মাছ ধরার কোনো সরঞ্জাম নেই। মাছ রাখার স্টোরের ভেতর থেকে কিছু কাপড়-চোপড় উদ্ধার হয়েছে। এতে নারীর ব্যবহৃত পেটিকোটও রয়েছে। তাছাড়া মরদেহগুলো বিকৃত প্রায়। তাই কাউকে ঠিকমতো শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এরপরও পরিধেয় কাপড়, গলায়-হাতে থাকা তাবিজসহ নানা চিহ্ন দেখে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, নিহতদের স্বজন ও ট্রলার মালিকরা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছে বলে জেনেছি। তারা এলে পরিচয় শনাক্ত আরও সহজ হতে পারে। এটি সম্ভব না হলে ডিএনএ টেস্ট করিয়ে পরিচয় শনাক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।