ইউএনওর দেয়া ঘরে বসবাস করেন তারা

হাসান পিন্টু হাসান পিন্টু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬:০৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৬:০৭:অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯
ইউএনওর দেয়া ঘরে বসবাস করেন তারা

সাবিত্রী রাণী। বয়স ষাট। প্রায় পাঁচ বছর আগে এক বন্যায় ভেঙে যায় তার মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকুও। এরপর থেকে ছোট ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে ক’দিন আগেও অন্যর ঘরে রাত কাটাতেন তিনি।

তার এই মানবেতর জীবন যাপনের সংবাদ পেয়ে ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চি চর উমেদ ইউনিয়নের নমগ্রাম এলাকার বিশ্বাসের বাড়িতে ছুঁটে যা লালমোহনের মানবিক নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান রুমি। সেখানে গিয়ে তিনি ১৫ দিনের ভিতর তাকে একটি টিন শেড ঘর করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ইউএনও। তবে সেই প্রতিশ্রুতি শুধু প্রতিশ্রুতিই ছিলো না। তিনি বাস্তবেই এর ফল দেখিয়ে দিয়েছেন। তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অসহায় সাবিত্রী রাণী এখন টিন শেড ঘরে বসবাস করছেন।

সাবিত্রী রাণী বলেন, ইউএনও স্যার ঘর করে দিয়েছেন। এখন দুই ছেলেকে নিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পাড়ছি। স্যারকে দোয়া করি তিনি যেনো আরও বড় হন।

অন্যদিকে সম্প্রতিকালের ঘূর্ণিঝড় ফণির তান্ডবেও নিজের শেষ সম্বল ঘরটুকু ভেঙে যায় উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের রায়রাবাদ এলাকার ৮০ বছর বয়সী খোকন বিবির। খবর পেয়ে তাৎক্ষনাক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকেও একটি ঘর করে দেয়ার আশ্বাস দেন ইউএনও হাবিবুল হাসান রুমি। তাঁর দেয়া আশ্বাসে সেই খোকন বিবিও পেয়েছেন একটি টিন শেড ঘর। এখন নিশ্চিতায় সেই ঘরে জীবন যাপন করছেন খোকন বিবি। ইউএনওর দেয়া ঘর পেয়ে খোকন বিবিও মহা খুশি।

আবেগ-আপ্লুত হয়ে খোকন বিবি বলেন, আমার সহায়-সম্পত্তি বলতে এই ভিটে আর ঘরটিই ছিলো। তবে কিছু দিন আগের বন্যায় আমার সেই ঘরটুকুও ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তখন আমাকে একটি ঘর করে দেয়ার আশ্বাস দেন ইউএনও স্যার। গত এক সপ্তাহ ধরে আমি সেই ঘরে বসবাস করছি। ইউএনও স্যার যদি আমাকে ঘর করে না দিতো তাহলে আমার নতুন ঘর করার কোনো সার্মথ্য ছিলো না। তাই ইউএনও স্যারের জন্য আমার দোয়া করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। আল্লাহ যেনো তাকে অনেক বড় করেন।

এব্যাপারে ইউএনও হাবিবুল হাসান রুমি বলেন, অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলেরই দায়িত্ব। এই দায়িত্ব বোধ থেকে এসব মানবিক কাজগুলো করেছি। ভবিষ্যতেও আমার এ ধরনের কাজ অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও সমাজের ভিত্তবানদেরও সমাজের এসকল অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত।