তজুমদ্দিনে মাদক দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | আপডেট: ১১:২৬:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
তজুমদ্দিনে মাদক দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় গাঁজা দিয়ে মো. আইয়ুব নামের এক মটরসাইকেল চালককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয়রা। এ ঘটনার মূল নায়ক এমরান ও তার পরিবারের সদস্যদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী করেন তারা।

শনিবার বিকেলে উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের নতুন বাজার (ইয়াছিনগঞ্জ) এলাকায় এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এলাকার প্রায় সহস্রাধিক মানুষ।

মনববন্ধনে স্থানীয় জমিস উদ্দিন ও মিরাজসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মো. শাহাবুদ্দিন ও তার ছেলে এমরানসহ তাদের পুরো পরিবার কালমা ইউনিয় এবং পাশ্ববর্তী তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের কাছে সুযোগ নিয়ে চড়া সুদের উপর টাকা লাগিয়ে আসছিল। তাদের সুদের টাকা দিতে কেউ যদি দেরি করে তাহলে শাহাবুদ্দিন ও তার ছেলে এমরান তাদের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ওই ব্যক্তিকে জোর করে তুলে তাদের তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় একটি গোপন টর্চার সেলে নিয়ে অত্যার ও নির্যাতন করতো। যত সময় তাদের পাওয়া সুদের টাকা না পেতো ততক্ষন এ অত্যাচার চলতে থাকতো।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৭ অক্টোবর শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চর কোড়ালমারা গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে ভাড়ায় চালিত মটোরসাইকেল চালক আইয়ুব তার চাচাতো ভাই নতুন বাজারের কাপর ব্যবসায়ী কামালকে এমরানদের টর্চার সেল থেকে মুক্ত করে এবং তাদের এ অত্যাচারের প্রতিবাদ করে। এ ঘটনার জের ধরে শাহাবুদ্দিনের ছেলে এমরান স্থানীয় স্কুল পড়ুয়া তারেক নামে এক ছাত্রকে দিয়ে আইয়ুবের মটরসাইকেল ভাড়া নেয়। এবং ওই মটোরসাইকেলে গাঁজা রেখে এক ঘন্টা পর মটোরসাইকেলটি আইয়ুবের নিকট ফিরিয়ে দিয়ে যায়। এবং এর কয়েক মিনিট পর পুলিশ এসে মটোরসাইকেল তল্লাশী করে আইয়ুবকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

এঘটনাটি এমরান ও তার পিতা শাহাবুদ্দিন সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে আইয়ুবকে ফাসিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দেয় বলেও অভিযোগ করেন এলাবাসী।

এঘটনায় সেদিন আইয়ুবের কাছ থেকে মটোরসাইকেল নেয়া ছাত্র তারেক জানান, আমাকে ওই দিন এমরান আইয়ুবের মটোরসাইকেল ভাড়া নিয়ে তার কাছে নিয়ে যেতে বলে। আমি তার কথা মত মটরসাইকেল নিয়ে তার কাছে গেলে এমরান আমাকে বসিয়ে রেখে মটোরসাইকেল নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর এসে মটোরসাইকেল ও এক’শ টাকা দিয়ে আইয়ুবের কাছে মটোরসাইকেল দিয়ে আসতে বলে। পরে শুনি গাঁজাসহ আইয়ুবের মটোরসাইকেলের মধ্যে ১৫ গ্রাম গাঁজা পাওয়া পুলিশ তাকে আটক করেছে। এসময় আমি ইমরানকে ফোন করলে সে আমাকে বলে ‘তাদেরকে বলিস আমি গাঁজা রেখে আয়ুবকে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছি’।

এব্যাপারে অভিযুক্ত এমরান ও তার পিতা সাহাবুদ্দিন জানান, তারা সুদের ব্যবসা করেন। কিন্তু আইয়ুবকে তারা গাঁজা দিয়ে ফাঁসায়নি। রাগের মাথায় তারেকের সাথে তার ফোনে এ কথা বলেছেন।

তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক আহমেদ জানান, আমরা পুরো ঘটনা টি তদন্ত করছি। যদি কোন ব্যক্তিকে ফাঁসানো হয় সেটি বেড়িয়ে আসবে। এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।