বোরহানউদ্দিনে ৯০ টাকার স্যালাইন ৫০০ শত টাকায় বিক্রি!

প্রকাশিত: ৭:১২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০১৯ | আপডেট: ৭:১২:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০১৯
বোরহানউদ্দিনে ৯০ টাকার স্যালাইন ৫০০ শত টাকায় বিক্রি!

ভোলা বোরহানউদ্দিনে ডক্টরস্ কেয়ার এন্ড ট্রিটমেন্ট চেম্বারে ৯০ টাকার স্যালাইন ৫০০ শত টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া কোয়ান্টাম রিসোনেনাল মেগনেটিক কম্পিউটার এনালাইজার এর মাধ্যমে পরীক্ষা করে রোগি প্রতি ৫০০শত টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ডাক্তার মো: হেলালউদ্দিন (বশির) এর বিরুদ্ধে।

এ পরীক্ষা করে তিনি রোগিদের কিডনি ও হার্টের রোগ বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন ইনজেকশন, স্যালাইন পুস করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

মো: কাঞ্চন মিয়া (৬৫) জানান, আমার স্ত্রী’ বিলকিছ বেগম কে নিয়ে বোরহানউদ্দিন দক্ষিন বাসস্ট্যান্ডে বোরহানউদ্দিন ডক্টরস্ কেয়ার এন্ড ট্রিটমেন্ট চেম্বারে হারবাল ডাক্তার মো: হেলালউদ্দিন (বশির) কে দেখাতে আসলে তিনি কি জানি পরীক্ষা করে ৫শত টাকা নিয়ে বলেন আপনারা স্ত্রী’র কিডনিতে সমস্যা। এ কথা শুনে আমি অনেক ভয় পেয়ে যাই। ডাক্তার যেই ঔষধ লিখে দেন তাই আমি নেই। ওই দিন ৭০০শত টাকার একটি স্যালাইন করে ১০০০ হাজার টাকা নিয়েছে।

আজ শুক্রবার আবার এ ডাক্তারকে দেখাতে আসলে তিনি ৯০ টাকার একটি স্যালাইন ৫শত টাকা রাখেন। আমি পরে গিয়ে এ অভিযোগ দিলে আমাকে শান্ত করার জন্য ওই দোকানদার আমাকে ৩০০শত টাকা ফেরত দেন। এ ডাক্তারকে বলি আপনার ঔষধ খাওয়ার পর থেকে আমার স্ত্রী’র সমস্যা আরোও কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আমাকে বলেন আপনার স্ত্রী’তো আর মরেনি। আমি এ প্রতারক ডাক্তারের উপযুক্ত বিচার চাই।

উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড থেকে আসা পেয়ারা বেগম জানান, আমার ৫ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে ইমন কে নিয়ে এ ডাক্তার দেখাতে আসলে তিনি একেই পরীক্ষা করে ৫শত টাকা নিয়ে বলেন আপনার ছেলের হার্টের সমস্যা রয়েছে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে ইনজেকশন দিতে হবে। কোন ডাক্তার সরাসরি এরকম রোগের কথা বলতে আমি শুনি নি। উনি রোগিদের ভয়ভীতি লাগিয়ে ঔষধ বিক্রি করছে। আমি আমার ছেলের জন্য নেওয়া ৫শত টাকা ফেরত চাই।

বোরহানউদ্দিনে ডক্টরস্ কেয়ার এন্ড ট্রিটমেন্ট চেম্বারে ক্যাশ এর দায়িত্বে থাকা মো: ইকবাল তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, রোগি গরীব বলার কারনে তার ৩শত টাকা ফেরত দিয়েছি।

এব্যাপারে ডাক্তার মো: হেলালউদ্দিন (বশির) এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ঢাকা থেকে এখানে এসে সপ্তাহে ২ দিন রোগি দেখি। আমরা পরীক্ষার জন্য সব মিলিয়ে ৫শত টাকা নেই।

এব্যাপারে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ও বোরহানউদ্দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকা মো: কামাল হোসেন জানান, বোরহানউদ্দিন হাসপাতালের টি.এস এর সাথে কথা বলে যদি কোন অভিযোগ পাই তাহলে এ বিষয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।