সত্তরের ঘূর্ণিঝড়ের স্মরণে মঙ্গলবার ‘উপকূল দিবস’

প্রকাশিত: ১০:৫৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৫৮:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯
সত্তরের ঘূর্ণিঝড়ের স্মরণে মঙ্গলবার ‘উপকূল দিবস’

উপকূলের সুরক্ষা ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে তৃতীয় বারের মত পালিত হতে যাচ্ছে ‘উপকূল দিবস’

আগামী ১২ নভেম্বর দেশের ৬০টি স্থানে একযোগে এ দিবস পালিত হবে বলে জানিয়েছেন উপকূল দিবস বাস্তবায়ন কমিটি।

১৯৭০ সালে দশ লাখ মানুষের প্রাণহাণী ঘটানো প্রলয়ঙ্করী ওই ঘূর্ণিঝড়ের দিনটি স্মরণে ১২ নভেম্বর রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘উপকূল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি করে আসছে তারা।

‘সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার’ ভয়াল ঘূর্ণিঝড়টি ১১ নভেম্বর রাতে ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতিবেগে দেশের উপকূলে আঘাত হানে।

গত বছর জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডবলিউএমও) বিশ্বের পাঁচ ধরনের ভয়াবহ প্রাণঘাতি আবহাওয়া ঘটনার শীর্ষ তালিকা স্থান পায় এই ঘূর্ণিঝড়।

ওই তালিকায় এই ঘূর্ণিঝড়কে বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণঘাতি ঝড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানায় উপকূল দিবস বাস্তবায়ন কমিটি।

উপকূল দিবস বাস্তবায়ন কমিটির নেতারা জানান, ’৭০-এর ১২ নভেম্বরের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় স্মরণে এ দিনটিকে ‘উপকূল দিবস’ হিসাবে ঘোষণার দাবি ওঠে ২০১৭ সালে।

সে বছর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে এ দিবস পালিত হয়ে আসছে।

উপকূল দিবস বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী রফিকুল ইসলাম মন্টু বলেন, উপকূলের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারকদের নজর কাড়তে ‘উপকূল দিবস’ ঘোষণার দাবি করা হয়েছে।

“উপকূলের জন্য একটি পৃথক দিবস থাকলে উপকূল ভাবনা সবার মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল, সংবাদ মাধ্যম থেকে শুরু করে সব মহলে উপকূল ভাবনার সুযোগ বাড়বে।“

এ বছর এ দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সব স্থানে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, ঘূর্ণিঝড়ে প্রয়াতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জলন এবং প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি পেশ রয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

এছাড়া এ কর্মসূচিতে রয়েছে উপলক্ষে ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর গলাচিপা, বরগুনার তালতলীর শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত ও লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ১০০১টি মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হবে।সাতক্ষীরার শ্যামনগরের হরিনগরে রয়েছে ফটো প্রদর্শনী।

‘উপকূল দিবস’ উপলক্ষে ১২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে উপকূলের ৬০ স্থানে মানবন্ধন, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকাসহ উপকূলবর্তী ১৬ জেলার ৫৫ স্থানে দিবসটি পালিত হবে। স্থানগুলো হচ্ছে কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, মহেশখালী, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, মিরসরাই, সন্দ্বীপ; ফেনী সদর, সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া, নোয়াখালীর সুবর্ণচর, হাতিয়া, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর, রামগতি, চাঁদপুরের চাঁদপুর সদর, ভোলার ভোলা সদর, যুগিরঘোল, চরফ্যাসন, তজুমদ্দিন, মনপুরা, লালমোহন, দক্ষিণ আইচা।

এছাড়া বরিশাল সদর, পটুয়াখালী সদর, কলাপাড়া, গলাচিপা, বাউফল, দশমিনা, রাঙ্গাবালী, পাখিমারা, কুয়াকাটা, চরকাজল, বরগুনা সদর, পরীরখাল, বেতাগী, তালতলী, পাথরঘাটা, বামনা, শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, পিরোজপুরের কাউখালী, ইন্দুরকানী, ঝালকাঠি সদর, কাঁঠালিয়া, নলছিটি, বাগেরহাট সদর, শরণখোলা; খুলনার পাইকগাছা, সাতক্ষীরা সদর, তালা, শ্যামনগর, বুড়িগোয়ালিনী ও হরিনগরে হতে যাচ্ছে এই দিবস পালনের অনুষ্ঠান।

উপকূল দিবস বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বানে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শতাধিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান দিবস পালনে এগিয়ে এসেছে বলে জানান তারা।