একযুগ ধরে প্রাণহীন চরফ্যাসন পাবলিক লাইব্রেরী

এম আবু সিদ্দিক এম আবু সিদ্দিক

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০১৯ | আপডেট: ৪:০৭:অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০১৯
একযুগ ধরে প্রাণহীন চরফ্যাসন পাবলিক লাইব্রেরী

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চরফ্যাসন পাবলিক লাইব্রেরীটি প্রাণহীন অবস্থায় পড়ে আছে। লাইব্রেরীর যে বইগুলো দিয়ে জ্ঞান পিপাসুরা তাদের জ্ঞান তৃষ্ণা মেটাতো সেগুলো এখন অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে। লাইব্রেরীটি এখন পাঠক শূন্য। পৌরশহওে এ পাবলিক লাইব্রেরী থাকা সত্তে¡ও অযত্নে অবহেলায় নতুন প্রজন্ম তা কাজে লাগাতে পারছে না।

চরফ্যাসন উপজেলা চত্তরে অবস্থিত পাবলিক লাইব্রেরীটি। জানাকির্ণ ভবনটি মাঝে মধ্যে দেখতে আসেন লাইব্রেরীয়ান মোঃ ফরহাদ। ১৯৭৭ সনে স্থাপিত জেলা প্রশাসক এন আই আকবরির উদ্ভোধনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু।

জানাযায়, চরফ্যাসন পাবলিক লাইব্রেরীটির ১৩ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা কমিটি রয়েছে। উক্ত কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন যুব ও ক্রীয়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি, সভাপতি- উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাধারণ সম্পাদ- মোঃ ফরহাদ।

সরেজমিনে বন্ধ লাইব্রেরিটির তালা খুলতেই দেখা যায় মাকড়শা বাসা বেধে রেখেছে সমস্ত ঘরে। ২টি চেয়ার ৬টি টেবিল, ৪টি বই র‌্যাকসহ প্রায় ২০০০ পিস পুরাতন বই চোখে পড়ে যা ঘরের এক কর্ণারে।

ফাতেমা মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্রী উম্মে হাবিবা আঁখি বলেন, পাঠ্যবই পড়া মানেই নির্দিষ্ট একটি সেলেবাসের মধ্যে থাকা। নির্দিষ্ট পাঠ্য বইয়ের বাহিরে অন্যান্য বই পড়লে অন্তরদৃষ্টি সুগঠিত হয় এবং আমাদের চিন্তা শক্তিকে রুচিশীল করে তাই এ সমাজের নতুন প্রজন্মের কথা চিন্তাকরে চরফ্যাশনের পাবলিক লাইব্রেরীটি যুগপোযুগী করে চালু করে যুব সমাজকে মাদকাশক্ত বা অন্যান্য খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লীষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

চরফ্যাসন সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ কয়সর আহাম্মেদ দুলাল বলেন, জীবনে সফলতা অর্জন করতে হলে বেশ কিছু গুনাবলী বা দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে। আর এ গুনাবলী বা দক্ষতা অর্জন করতে হলে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের বই পড়তে হবে। আমাদের চরফ্যাশনের লাইব্রেরীটি বন্ধ থাকায় এ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত চরফ্যাশনের মানুষ। ৭৫% নি¤œ এবং মধ্যভিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রী ক্লাশের বাহিরে অন্যান্য বই ক্রয় করা কষ্টকর।

এ লাইব্রেটির প্রায় ৩০ বছর দায়িত্বে থাকা লাইব্রেরীয়ান মোঃ ফরহাদ জানান, আমার দেখামতে মরহুম অধ্যক্ষ মিয়া মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্যার, ডাঃ রফিকুল ইসলাম, বাদল কৃষ্ণ দেবনাথ, কয়সর আহাম্মেদ দুলাল, মোজাম্মেল স্যার, মনির আহমেদ শুভ্রসহ অসংখ্য বই প্রেমি আসতেন লাইব্রেরিতে। এছাড়াও অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীও আসতো। এখন আর কেউ আসে না।

এ বিষয়ে পাবলিক লাইব্রেরীর সভাপতি উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন চরফ্যাসন নিউজকে বলেন, জর্রাজীর্ণ এই ভবনটি এখন সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী। আগামী এক বছরের মধ্যে পাবলিক লাইব্রেরীর নতুন ভবনের বরাদ্দ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন। এই ভবনটি উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে। লাইব্রেরীর নতুন ভবন হলে পাঠকদের চাহিদা পূরণ হবে। আরো খ্যাতিমান লেখকদের বই ও নিয়মিত পত্র-পত্রিকা রাখা হবে।