চার নেতার প্রতি সর্বস্তরের মানুষের বিনম্র শ্রদ্ধা

প্রকাশিত: ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৫৯:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৯
চার নেতার প্রতি সর্বস্তরের মানুষের বিনম্র শ্রদ্ধা

জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে চার জাতীয় নেতার প্রতি সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। দিবসের শুরুতেই সকাল ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণ করা হয়।

সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলীয় সিনিয়র নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবনে কিছু সময় কাটান।

৭টা ২০মিনিটে প্রধানমন্ত্রী স্থান ত্যাগ করলে সকলের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর ৮টায় বনানী কবরস্থানে তিন জাতীয় নেতার কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত করা হয়। একইভাবে রাজশাহীতে অপর নেতা কামরুজ্জামানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ উত্তর দক্ষিণ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতী লীগ, যুব মহিলা লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী লীগ, মহিলা শ্রমিক লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আজ ৩ নভেম্বর। শোকাবহ জেলহত্যা দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কময় একটি দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় চার জাতীয় নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

একাত্তরের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা সেদিন দেশ মাতৃকার সেরা সন্তান জাতীয় এই চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে একাত্তরের পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। প্রগতি-সমৃদ্ধির অগ্রগতি থেকে বাঙালিকে পিছিয়ে দিয়েছিল। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় বর্বরোচিত এ ধরনের হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনা ও চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করছে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে সারা দেশে এই দিনটি পালিত হচ্ছে।