লক্ষ্মীপুরে শিক্ষক সংকট: তিন বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত

প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০১৯ | আপডেট: ৪:৫৪:অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০১৯
লক্ষ্মীপুরে শিক্ষক সংকট: তিন বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত

লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও রামগঞ্জ এমইউ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের। এই তিন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানে তীব্র শিক্ষক সংকটে ভুগছে। ১১৯ জনের স্থলে শিক্ষক রয়েছেন ৫৮ জন। শিক্ষকের অভাবে বিদ্যালয়গুলোয় ব্যাহত হচ্ছে বিষয়ভিত্তিক পাঠদান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের স্বনামধন্য দুটি বিদ্যাপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। বরাবরই এ দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসএসসিতে ভালো ফল করে থাকে। কিন্তু শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি নানা কারণে দিন দিন বিদ্যালয় দুটিতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাবে এক বিষয়ের শিক্ষককে অন্য বিষয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। একই অবস্থা রামগঞ্জ এমইউ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়েরও।

এ অবস্থায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়গুলোয় দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষকের পদ রয়েছে ৫৩টি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ৫২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৬ জন। ফলে খালি পড়ে আছে ২৬টি। একই অবস্থা ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের। এখানে ৫৩টি পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ২৯ জন। পদ খালি ২৪টি। এদিকে রামগঞ্জ এমইউ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩ পদের মধ্যে আটটি খালি।

প্রতিটি বিদ্যালয়েই বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সমাজ, বিজ্ঞান, ইসলাম শিক্ষা ও আইসিটিসহ বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক নেই। দীর্ঘদিন ধরে এসব বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের ভবনগুলোও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। রয়েছে বেঞ্চসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণের সংকটও।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানায়, এ তিন বিদ্যালয়ে এক বিষয়ের শিক্ষক অন্য বিষয়ের ক্লাস নিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। সময়মতো শেষ করা যাচ্ছে না সিলেবাস। শ্রেণীকক্ষে পড়া বুঝে নিতেও শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে। যার প্রভাব পরীক্ষার ফলের ওপর।

বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, শিক্ষক সংকটের কারণে গণিতের শিক্ষককে নিতে হয় ইংরেজি ক্লাস। আবার সমাজের শিক্ষক বিজ্ঞানের ক্লাস নিচ্ছেন। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় তারা ক্লাসে পড়া বুঝতে পাড়ছে না। তাদের দাবি, দ্রুত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করে এ সমস্যার সমাধান করা হোক।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. খলিলুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে আপাতত চারজন গেস্ট টিচার নিয়োগ করা হয়েছে। সংকটের বিষয়ে লিখিতভাবে বেশ কয়েকবার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জানানো হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

শিক্ষক সংকটের কথা স্বীকার করে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সরিৎ কুমার চাকমা বলেন, জেলার সরকারি তিনটি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে এ সংকট দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। আশা করি, শিগগিরই প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে।