মনপুরায় গলাকেটে হত্যাকন্ডে জড়িত ৫ জন গ্রেফতার

ছালাহউদ্দিন ছালাহউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০১৯ | আপডেট: ৮:২৮:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০১৯
মনপুরায় গলাকেটে হত্যাকন্ডে জড়িত ৫ জন গ্রেফতার

ভোলার মনপুরায় ডাচ্ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টকে নিজ বাড়ির উঠানে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের সোমবার গ্রেফতার করছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ওই এজেন্টের দোকান থেকে এক কর্মচারী দিবাকর ও ভাড়াটিয়া খুনি ৩ জনকে ঢাকাগামী লঞ্চ ফারহান-৩ থেকে এবং আবুল কালামকে চরফৈজুদ্দিন গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারী এখনও পলাতক রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে নিহত পরিবারের বাড়ীর পাশে পুকুর থেকে গলাকাটার ব্যাবহৃত ২টি ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভোলা সদর এস.এম মিজানুর রহমান। পলাতক আসামী মো: জয়নালকে গ্রেফতার করার চেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

গ্রেফতারকৃত সকল আসামীকে ভোলায় প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিহত ডাচ্ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ও ব্যবসায়ী হলেন, উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মজিবুল হক মোল্লার বড় ছেলে মোঃ আলাউদ্দিন মোল্লা। সে ৪ সন্তানের জনক।

রবিবার রাত সাড়ে ১২ টায় উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ফকিরহাট বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পর ওই এজেন্টের নিজ বাড়ির সামনের উঠানে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন নিহত ওই এজেন্টের কর্মচারী হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের বাসিন্দা দিবাকর। অপর ৪ জন হলেন, মোঃ শামীম (২০), মোঃ শাহীন (১৮) ও মোঃ মাকছুদ (১৮)। এদের ৩ জনের বাড়ি তজুমুদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের হাজিকান্দি গ্রামে এবং আবুল কালাম (৩২) হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের বিচারদাবী করে থানার সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন।

নিহত আলাউদ্দিনের স্ত্রী শাহনাজ আকতার ঝতু (৩২) কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন আমার মত আর যেন কোন বোনের এই ধরনের ঘটনা না ঘটে। আর যেন কোন বোনের স্মামী হারাতে না হয়। আমার ৪টি সন্তান। আমার ছোট ছেলের বয়স মাত্র ১ মাস। আমি ঘটনার সাথে জড়িত সকলের সর্বোচ্ছ শাস্তি ফাসির দাবী করছি।

নহিতের বড় মেয়ে সুমাইয়া(১০) বলেন, আপনারা আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেন। আমি আমার বাবার কাছে যাব। যারা আমার বাবাকে গলাকেটে হত্যা করেছেন তাদের ফাসির দাবী করছি। আবেগ আপ্লুত হয়ে নিহত পরিবারের স্বজনেরা এসব কথা বলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভোলা সদর এস.এম মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃত ২ জন এজাহার ভুক্ত, ৩ জন সন্দেহযুক্ত এবং এজাহারভুক্ত ১ জন পলাতক রয়েছেন। অভিযান চালিয়ে গলাকাটায় ব্যাবহৃত ২টি ছুরি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সেগুলোর নাম এখনও বলা যাবেনা। আমরা এখনও তদন্ত করছি। আমরা প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।