দক্ষতা উন্নয়ন ও সামার্থ্য বৃদ্ধিতে আইটেক অন্যতম : ভারতীয় হাইকমিশনার

প্রকাশিত: ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৩৩:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯
দক্ষতা উন্নয়ন ও সামার্থ্য বৃদ্ধিতে আইটেক অন্যতম : ভারতীয় হাইকমিশনার

দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামর্থ্য বৃদ্ধিতে আইটেক কর্মসূচীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এটি ১৬১ দেশ জুড়ে বন্ধুত্বের সেতু গড়ে তুলতে অসামন্য ভুমিকা রাখছে। প্রতি বছর ভারত জুড়ে ৬৭টি তালিকাভুক্ত সেরা প্রতিষ্ঠান আইটেক কর্মসূচীর অধীনে সর্ট, মিডিয়াম এবং দীর্ঘ মেয়াদী কোর্স পরিচালনা করে থাকে।

এ কোর্সগুলোতে ভারত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত। এ কোর্সের অধীনে বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে অন্যাণ্য দেশগুলোর মধ্যেও ‘কারিগরি দক্ষতা, প্রশিক্ষণের সুযোগ, পরামর্শ সেবা, সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন- এসব সুযোগ প্রদানকারী দেশ হিসাবে ভারতের দক্ষতা সম্পর্কে সচেতনতা ও আগ্রহ বেড়েছে।
ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ এ কথা বলেছেন। চলতি মাসের ১৯ সেপ্টম্বর ভারতীয় হাইকমিশন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল এবং ইকোনিক কো-অপারেশন’ আইটেক দিবস।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ আরো বলেন, আইটেক হলো ভারত সরকারের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব প্রশাসন (ডেভলপমেন্ট পার্টনারসীপ এডমিনিষ্টেশন) এর প্রধান কর্মসূচী। ১৯৬৪ সালে এই প্রোগামটি চালু হয়। এটি এশিয়া, আফ্রিকা, পূর্ব ইউরুপ, ল্যাটিন আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের ছোট দ্বীপ দেশগুলোতে বন্ধুত্বের সেতু গড়ে তুলতে ভুমিকা রাখছে। প্রতি বছর হিসাব, স্বাস্থ্য, নিরীক্ষা, ব্যবস্থাপনা, এসএমই, গ্রামীন উন্নয়ন, সংসদীয় বিষয়াবলীর মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষনের জন্য সহযোগী দেশগুলোতে ১০ হাজারের বেশী প্রশিক্ষণ পর্বের আয়োজন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, আইটেক সহযোগীতায় বাংলাদেশ আমাদের প্রধানতম এবং গুরুপ্তপূর্ন অংশীদার। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে শিক্ষকদের জন্য আইটি, ওয়েভ ডিজাইন, ইংলিশ কমিউকেশন স্কিল এবং পেডগোজি বিষয়ে বিশেষ কোর্স ডি-সাইন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫টি ব্যাচ চেন্নাই-তে অংশগ্রহণ করেছে। স্কুল, মানবিক এবং বিজ্ঞান কলেজ, পলিটেকনিক, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রসার ২০০ শিক্ষককে এতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

দেশে বেসরকারি উদ্যোগ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে বেসরকারি ক্ষেত্রের পেশাজীবিরাও তাদের দক্ষতা বাড়াতে আইটেক কোর্সে অংশ নিতে পারবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, অংশীদার দেশগুলির চাহিদা পুরনে আরো অনেক প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়েছে। এসব দেশকে পরিবর্তনশীল বিশ্বে তাদের নির্দিষ্ট চাহিদা পূরনে সহায়তা করবে’।

ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ আরো বলেন, ভারত সরকার আইটেক প্রোগামের অধীনে জন প্রশাসন, বিচার বিভাগ, শিক্ষা, পুলিশ, সুল্ক ও মাদক নিয়ন্ত্রন ইত্যাদিসহ বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এই প্রশিক্ষণগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের মেধাবীদের সাথে আমাদের সেরা বিষয়গুলো ভাগ করে নেয়ার সুযোগ পাই। আমরা এদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের অভিজ্ঞতা থেকে সমানভাবে উপকৃত হচ্ছি।

তিনি বলেন, এ বছরের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মাসব্যাপী বাংলাদেশের ণড়মধ অনুশীলনে আগ্রহীদের জন্য ‘স্পেশাল ট্রেনিং ফর ণড়মধ ট্রেইনার্স নামে একটি বিশেষ কোর্সর আয়োজন করেছে। এটি ব্যাঙ্গালুরে অনুষ্ঠিত হবে।

এরআগে ১৮-২০ সেপ্টম্বর পর্যন্ত ৩দিন ব্যাপী ‘মিডিয়া ওয়ার্কসপে’ আয়োজন করে ইন্ডিয়ান হাইকমিশন। এতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার ২২ জন সংবাদকর্মী অংশগ্রহণ করে।

এ সময় রিভা গাঙ্গুলী দাশ বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবেই অনন্য। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক দিক থেকে একে অণ্যের সাথে অনেকটাই আঙ্গাঅঙ্গি জড়িত। তাই বাংলাদেশের নাগরিকদের পেশাগত কাজে দক্ষতায় সহায়তা দায়িত্ব বলে মনে করনে তিনি। এ সময় তিনি বাংলাদেশী গনমাধ্যমকর্মী ও সংবাদপত্রের প্রশংসা করেন। প্রশিক্ষণ শেষে সাংবাকিদের সম্মাননা প্রদানসহ পুরস্কৃত করা হয়।