চরফ্যাসন শহরে ময়লার ভাগাড়

প্রকাশিত: ৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০১৯ | আপডেট: ৮:১৮:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০১৯
চরফ্যাসন শহরে ময়লার ভাগাড়

চরফ্যাসন শহর যেন ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। পৌরসভার যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার কারনে পানি বাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে জানান দিলেন জনবল সংকটের কারণে এলাকায় জনদূর্ভোগ লাগব হচ্ছে না।

১৯৯০ সনে চরফ্যাসন পৌরসভায় রুপান্তরিত হয়। বর্তমানে পৌরসভাটি প্রথম গ্রেডে অবস্থান করছে। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে এই পৌরসভাকে বাংলাদেশে একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে চি‎িহ্নত করে উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।

পৌরসভা সৃষ্টি হবার পর থেকে অদ্যাবদি ময়লা আবর্জনা অপসারনের জন্য স্বাস্থ্য সম্মত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। যার কারণে ভুক্তভোগীরা এই নিয়ে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করতে শোনা যায়। একটি জনগুরুত্বপূর্ণ পৌর শহরে যত্রতত্র স্থানে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিত ভাবে নিম্ম মানের প্লাষ্টিকের ডাস্টবিন বসানো হলেও অজ্ঞাত কারনে ৬ মাসের ভিতরে সকল ডাস্টবিন তুলে নেয়া হয়।

মঙ্গলবার পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে এবং সরকারী বেসরকারী অনেক প্রতিষ্ঠানে ময়লার স্তুপ করে রাখা হয়েছে দিনের পর দিন। দৃষ্টিনন্দন ফ্যাসন স্কয়ারে চরফ্যাসন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন পোস্ট অফিসের অভ্যন্তরে, আলীয়া মাদ্রাসার পিছনে, ষ্টেডিয়ামের সামনে, উপজেলা পরিষদের বাউন্ডারী ওয়াল সংলগ্ন, হেলিপ্যাড অদূরে দক্ষিণ ফ্যাসন সংলগ্ন শহরের ময়লা আবর্জনা ফেলতে দেখা যায়। শহরের বিনোদন কেন্দ্র জ্যাকব টাওয়ার, ফ্যাসন স্কয়ার ও শহিদ মিনার এবং শিশু পার্কে আগত দর্শনার্থীদের আবর্জনার দুর্গন্ধে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর সোহরাব হোসেন জানান, পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীর অভাবে পৌরবাসীকে সঠিকভাবে নাগরিক সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পৌরবাসীর অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, পৌরসভার মেয়র মহোদয়কে এ বিষয়ে অবহিত করবো, শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে আরও পরিচ্ছন্ন কর্মী প্রয়োজন।

চরফ্যাসন হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ মাহাবুব কবির বলেন, চলতি বর্ষার মৌসুমে ময়লা আবর্জনার কারনে পানি বাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি হয়। ময়লার জীবানু থেকে মশা মাছির মাধ্যমে কলেরা, আমাশয়, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা থাকে।

এ ব্যাপারে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সগির আহাম্মেদ নিরব বলেন, স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ, প্রয়োজনীয় ডাস্টবিন স্থাপন এবং শহরের ড্রেনগুলো সংস্কার ও বর্ষার পানি চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহনে নিমিত্তে সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করছি এবং পৌরবাসীকে আরো সচেতন হয়ে এ শহরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে নিজ নিজ স্থান থেকে কাজ করতে হবে।