চরফ্যাসনে আরো একটি কালো ডিম দিয়েছে সেই হাঁস

প্রকাশিত: ৬:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২ | আপডেট: ৬:৫১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২
চরফ্যাসনে আরো একটি কালো ডিম দিয়েছে সেই হাঁস

ভোলার চরফ্যাসন উপজেলায় অস্বাভাবিক কালো ডিম পাড়া সেই পাতিহাসটি আরো একটি কালো দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টম্বর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সেই হাঁসের মালিক মো. আব্দুল মতিন। এ নিয়ে মোট দুইটি ডিম দিয়েছে ওই হাঁসটি। এ নিয়ে ওই এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডে আবদুল মন্নান রাঢ়ী বাড়ীর মতিনের স্ত্রী তাসলিমা বেগমের পালণ করা ১১টি হাসের মধ্যে একটি হাঁস এ অস্বাভাবিক কালো ডিম দেয়। বুধবার সকালে তাসলিমা বেগম হাঁসের খোয়ার থেকে হাসগুলো ছেড়ে দিতে গেলে এ কালো ডিম দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে যায়। পবে বাড়ির লোকজনকে বিষয়টি জানালে মুহুর্তের মধ্যে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ডিমটি দেখতে এলাকাবাসী ওই বাড়িতে ভীড় জমায়।

আব্দুল মতিন জানান, তাঁর স্ত্রী তাসলিমা বেগম ১১টি দেশী হাঁস পালন করেন। এর মধ্যে ৮ মাস বয়সী একটি হাঁস এই প্রথম ডিম পাড়ে। সকালে বাড়ির খোয়ার থেকে হাঁস ছাড়তে গেলে কালো রং দেখেতে পায়। একই অবস্থা বৃহস্পতিবারও ঘটে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরাও বেশ চিন্তিত।

চরফ্যাসন উপজেলা উপসহকার প্রাণী সম্পদক কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, বুধবার হাঁসের কালো ডিম দেয়ার বিষয়টি জানার পর আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে এর সত্যতা পেয়েছি। আজও (বৃহস্পতিবার) আরো একটি কালো ডিম দিয়েয়ে হাঁসটি। তবে সেটি প্রথম দিনের তুলনায় কালো কিছুটা কম। এছাড়াও ডিমগুলো কিছু দিয়ে আচড় দিলে ভিতর থেকে সাধারণ ডিমের কালার বেরিয়ে আসে। তার পরও আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছি। আরো এক সপ্তাহ দেখার পর এ ডিমগুলো ঢাকায় প্রাণি সম্পদের পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মন্ডল জানান, তাঁর জানামতে হাঁস এধরনের কালো ডিম এই প্রথম পেড়েছে। জিংডিং জাতের এক প্রকার হাঁস হালকা নীল রঙের ডিম দেয় কিন্তু কোনো হাঁস কালো ডিম পেড়েছে কখনো শুনিনি ও দেখিনি। তবে ভারতীয় ব্রিডের কাদারনাথ বা কালো মাসি জাতের মুরগী কালো ডিম পারে। যার মাংসও কালো। হাঁসে কালো ডিম পাড়ার নেপথ্যে জরায়ুর কোন সমস্যা হতে পারে। সাধারণত হাঁসের জরায়ুতে ডিমের খোসাটি ১৯ ঘন্টা থাকে। হাঁসটি যদি ধারবাহিকভাবে কালো ডিম দেয়া অব্যাহত থাকে তাহলে এগুলো পরীক্ষাগারে পাঠালে মূল কারণ জানা যাবে।