ভোলার শিক্ষার্থী লাবিবের নৌ-দুর্ঘটনা প্রতিরোধী ডিভাইস আবিস্কার

প্রকাশিত: ৭:১০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০২২ | আপডেট: ৭:১০:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০২২
ভোলার শিক্ষার্থী লাবিবের নৌ-দুর্ঘটনা প্রতিরোধী ডিভাইস আবিস্কার

যাত্রীবাহী নৌ-যানগুলোতে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী প্রতিরোধী ডিভাইস আবিষ্কার করেছেন ভোলার ক্ষুদে বিজ্ঞানী মাহির আশহাব লাবিব।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার সময় সরকারি আবদুল জব্বার কলেজ এর একটি কক্ষে ডিজিটালাইজড বিআইডব্লিওটিএ (Digitalized BIWTA, A Life protective device for passenger vessel) নামক এ যন্ত্রটির প্রদর্শনী করা হয়েছে।

মাহির আশহাব লাবিব এ কলেজেরই একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের একজন কৃতি শিক্ষার্থী।

তার উদ্ভাবিত ডিভাইসের কার্যকারিতা বর্ণনা করতে গিয়ে এ খুদে বিজ্ঞানী বলেন, এটি এমন একটি যন্ত্র যা যাত্রীবাহী লঞ্চের ভেতরে প্রবেশ পথ ও বহির্গমন পথে লাগানো থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লঞ্চের ভিতরে প্রবেশকারি যাত্রী ও একই সাথে লঞ্চ থেকে বের হওয়া যাত্রীর সংখ্যা আলদা আলাদাভাবে ডিসপ্লেতে দেখাতে থকে। যদি মোট যাত্রী সংখ্যা উক্ত নৌ-যানে BIWTA কর্তৃক নির্ধারিত সর্বোচ্চ যাত্রী ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশী হয় তবে তা সনাক্ত করে তৎক্ষণাৎ উচ্চশব্দে সাইরেন বাজিয়ে নৌ-যানে অবস্থানরত যাত্রী, নৌ-যানের চালক এবং নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ তথা BIWTA এর কর্মকর্তাদেরকে সতর্ক করবে। যতক্ষন পর্যন্ত যাত্রী ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নৌযানের অভ্যন্তরে থাকবে ততক্ষণ সাইরেন বাজতে থাকবে। যাত্রী সংখ্যা নির্ধারিত মাত্রার নিচে আসলে কেবল তখনই সাইরেন বন্ধ হবে।

ঘটে যাওয়া লঞ্চ দুর্ঘটনাগুলোর অনেক কারণ থালেও বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত থেকে জানা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল কারণ ছিল ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রীবহন।

এই দুর্ঘটনাগুলোতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে, হয়েছে সম্পদহানী। অথচ অভ্যন্তরীন নৌ চলাচল আইন ২০১৯ এর ৬৬ ধারায় অতিরিক্ত যাত্রীবহন করাকে বেআইনি ঘোষণা করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডিভাইসটির নাম Digitalized BIWTA রাখা হলো কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে এই খুদে বিজ্ঞানী জানান, “মূলত যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ BIWTA কে Digitalized করাই আমার উদ্দেশ্য।”

ডিভাইসটি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ডিভাইসটিতে GPS যুক্ত করে Internet Server এর সাথে সংযুক্ত করার কাজ চলমান আছে। এরপর BIWTA এর অনুমতি সাপেক্ষে ডিভাইসটিকে BIWTA-এর সার্ভার এর সাথে যুক্ত করে দেওয়া গেলে, BIWTA প্রতিটি নৌ-যানের Real Time সব যাত্রী সংখ্যা তাদের অফিসে বসেই পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এবং নৌযানটি অন্য কোনো ঘাট থেকে আতিরিক্ত যাত্রী নিচ্ছে কিনা তাও পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। এর ফলে অতিরিক্ত যাত্রীবহনের কারণে নৌ-দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।