চরফ্যাসনে ধান ক্ষেতে মিলেছে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ

প্রকাশিত: ৯:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২২ | আপডেট: ৯:৩৬:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২২
চরফ্যাসনে ধান ক্ষেতে মিলেছে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ

শোকস্তব্দ বাবা-মাকে শোকেরমোহে আচ্ছন্ন রেখে মহল্লার মসাজিদের কবরস্থানে চিরনিদ্রাস শায়িত হলেন শিশু ইয়াছিন। বৃহষ্পতিবার বেলা ৩টায় ওমরাবাজ গ্রামের শহীদ মিয়ার বাড়ির দরজার জামে মসজিদে জানাজা শেষে মসজিদ কবরস্থানেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে। শোকাহত গ্রামবাসী, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবকসহ শোকাহত মানুষ জানাযায় অংশ নেন। গত বুধবার বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাঁকো থেকে খালে পড়ে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের একজন ইয়াছিন। অপর শিশু নিশাদের মরদেহ বুধবার বিকালে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। বুধবার রাতে ওই মসজিদ ময়দানে জানাজা শেষে মসজিদের কবরস্থানে নিশাদকে সমাহিত করা হয়। এখন পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত দুই সহপাঠী নিশাদ আর ইয়াছিন। দুই শিশু শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকে আচ্ছন্ন স্বজন, সহপাঠীসহ পুরো ওমরাবাজ গ্রাম।

প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ারসার্ভিস, পুলিশসহ স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বুধবার দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরারপথে সাঁকো থেকে মরকখালী খালে পড়ে নিখোঁজ হয় দুই সহপাঠী নিশাদ ও ইয়াছিন। দুই জনই ওমরাবাজ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। খবর পেয়ে বিকেল ৩টায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ারকর্মীরা। বিকেল পৌনে ৪টায় সাঁকো সংলগ্ন খাল থেকে ডুবন্ত শিশু নিশাদের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

বুধবার দিনভর দূর্ঘটনাস্থল মরকখালী খালে ফায়ার সার্ভিসকর্মী ও স্থানীয়রা অনুসন্ধান করেও ইয়াছিনের হদিস করতে পারেনি। ডাকা হয়েছে বরিশাল থেকে ফায়ারসার্ভিসের ডুবুরী দল। সন্ধ্যার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীদল দূঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় গ্রামবাসীও অংশ নেন এই উদ্ধার অভিযানে। দূর্ঘটনাস্থল ঘাতক সাঁকোর দুই দিকে ২/৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তল্লাশী করেও মিলছিল না ইয়াছিনের দেহ। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে গ্রামের মহিলারা ধানক্ষেতে পড়ে থাকা একটি শিশুর দেহ দেখে উদ্ধারকর্মীদের জানায়। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মী ও শোকাহত গ্রামবাসী ছুটে যায় ওই ফসলের মাঠে। সেখানেই মিলে যায় শিশু ইয়াছিনের মরদেহ। মরদেহ উদ্ধারের পরপর কান্নায় ভেঙ্গেপড়ে শিশুর বাবা-মা, স্বজনসহ গ্রামবাসীরা।

পশ্চিম ওমরাবাজ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অহিদুর রহমান জানান, দূর্ঘটনাস্থল সাঁকো থেকে আধা কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে একটি ধানের ক্ষেতে ইয়াসিনের মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি জানান, রাতের জোয়ারের পানিতে মরকখালী খাল থেকে মরদেহটি পানি প্রবাহের নালা দিয়ে ওই ফসলের মাঠে উঠে যায় বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আসাদুজ্জামান জানান, ইয়াছিনের অক্ষত মরদেহের পিঠে স্কুলব্যাগ সাটানো ছিল।