‘পানিতে সব ভেসে গেছে, কেউ দেখতেও আসলো না’

প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২২ | আপডেট: ৬:০৮:অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২২
‘পানিতে সব ভেসে গেছে, কেউ দেখতেও আসলো না’

‘হঠাৎ পানি এসে বাড়িঘর ডুবে গেছে। রান্না করার কোনো ব্যবস্থা নাই। কীভাবে রান্না করি। ছেলেমেয়েকে খাওয়াতে পারছি না। কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে ভাই।’

শুক্রবার (১৭ জুন) এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ার চর গ্রামের মমেনা বেগম (৪০)।

তিনি আরও বলেন, ব্রহ্মপুত্রের পানির চাপে ঘরের জিনিসপত্র, গরু-ছাগল পানিতে ভেসে গেছে। এখন পর্যন্ত কেউ দেখতেও আসলো না। কেউ কোনো প্রকার সাহায্য সহোযোগিতাও করছে না। এখন নৌকাতে মালামাল নিচ্ছি। পশ্চিমপাড়ায় আত্মীয় বাড়ি, সেখানে যাব।

একই এলাকার আরমান আলী নামে একজন বলেন, বৃষ্টির কারণে আজ ৮-৯ দিন কোনো কাজকর্ম নেই, বসে আছি। হঠাৎ পানি এসে বাড়িঘর ডুবে গেল। ৩-৪ দিন ধরে পানিবন্দী। ঠিক মতো খাইতে পারছি না। কারণ রান্না যে করব তার কোনো ব্যবস্থা নাই। এতো পরিমাণ কষ্টে আছি বলার মতো কোনো ভাষা নাই। আশেপাশে যদি কোনো দোকান থাকতো তাও না হয় কিছু কিনে খাওয়া যেত।

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।  ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে সদর, উলিপুর, ফুলবাড়ী, চিলমারী, রাজারহাট উপজেলার অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। চর ও দ্বীপচরগুলো প্লাবিত হওয়ায় ভেঙে পড়েছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা।

ঘরবাড়ি তলিয়ে থাকায় অনেক পরিবার ঘরের ভেতর উঁচু মাচানে ও নৌকায় দিন পার করছেন। সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা, যাত্রাপুর, পাঁচগাছী ইউনিয়ন, উলিপুর উপজেলার হাতিয়া, বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা, চিলমারী উপজেলার চিলমারী, অষ্টমিরচর, নয়ারহাট ইউনিয়নের চেয়্যারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, এসব এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ারচর, রলাকাটা, খেয়ার আলগা, বড়ুয়া ও মাঝিয়ালির চরের প্রায় ৫ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)  নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার, দুধকুমারের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।