মনপুরায় ৬ গ্রাম প্লাবিত, ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি

ছালাহউদ্দিন ছালাহউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২২ | আপডেট: ৫:৫০:অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২২
মনপুরায় ৬ গ্রাম প্লাবিত, ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি

ভোলার মনপুরায় অতি বৃষ্টি ও পূর্ণীমার জোয়ারে মেঘনার পানি বিপদসীমার ওপর প্রবাহিত হয়ে নিম্মাঞ্চলসহ ৬ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৮ হাজারের বেশি মানুষ।

এদিকে দিনে-রাতে দুইবার জোয়ারের পানি প্লাবিত হওয়ায় বেড়ীর বাইরে থাকা পরিবারগুলো রান্না-বান্না করতে না পেরে অর্ধহারে-অনাহার মানবেতর জীবন যাপন করছে। তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষদের কোন সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ জোয়ারে প্লাবিত নিন্মাঞ্চলসহ বেড়ীবাঁধের বাহিরের এলাকার পরিবারগুলোর।

এছাড়াও মনপুরার মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সদ্য ঘোষিত নতুন ৫নং কলাতলী ইউনিয়ন (বেড়ীবাঁধহীন) নিম্মাঞ্চলসহ মূল ভূ-খন্ডে ৩-৪ ফুট জোয়ারের পানি প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য আবদুর রহমান ও মোঃ ছালাউদ্দিন। এতে ওই এলাকার আনুমানিক ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে জানান তারা।

এদিকে শুক্রবার মেঘনার পানি বিপদসীমার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর ডিভিশন-২ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহমান।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট, চরজ্ঞান ও সোনারচর গ্রামের বেড়ীর বাইরে প্রায় ২ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার ১ নং মনপুরা ইউনিয়নের আন্দির পাড়, কূলাগাজী তালুক গ্রামের পশ্চিম পাড় ও রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট এলাকার কাউয়ারটেক গ্রামে বাইরে ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। দিনে-রাতে দু’বেলায় জোয়ারে প্লাবিত হওয়ায় ওই সমস্ত এলাকার বেশিরভাগ মানুষ না খেয়ে দিনযাপন করছে।

হাজির হাট ইউনিয়নের দাসেরহাট ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ শাহজাহান বলেন, হাজিরহাট ইউনিয়ন ও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ভুইয়ারহাট সংলগ্ন ব্রীজের খালের উপর স্লুইজগেট না থাকায় জোয়ার আসলে পানি ঢুকে পুরো দাসের হাট গ্রাম তলিয়ে যায়। এই জন্য মানুষের বাড়ীঘর প্লাবিত হয়। পানিবন্ধী থাকে পুরা গ্রামের মানুষ। ভুইয়ারহাট সংলগ্ন খালের উপর একটি স্লুইজগেট দাবী করছি। তাহলে সাধারন মানুষের আর ভোগান্তি হবেনা।

এ ব্যাপারে হাজির হাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নিজামউদ্দিন হাওলাদার বলেন, জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার ইউনিয়নের দাসেরহাট গ্রাম ও বেড়ীবাঁধের বাহিরের বসবাসরত মানুষগুলো প্লাবিত হয়। জোয়ারের পানিতে তাদের বসতভিটা ডুবে যায়। এই বিষয় আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছি।

এই ব্যাপারে উপজেলার ১ নং মনপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমানত উল্লা আলমগীর জানান, বেড়ীর বাইরে তিন গ্রাম ও ঢাকার লঞ্চ ঘাট এলাকায় জোয়ারের পানিতে দিনে-রাতে দু’বেলা প্লাবিত হয়। এতে তার ইউনিয়নের ৩ হাজার মানুষ জোয়ারে পানিবন্দি অবস্থায় থাকে। তিনি দুর্গত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার দাবী করেন।

এই ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, মেঘনার পানি বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বেড়ীর বাইরে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বে থাকা চরফ্যাসন উপজেলার নির্বাহী অফিসার আল নোমান মুঠোফোনে জানান, পানিবন্দি কত মানুষজন আছে তা নির্নয় করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে। এই বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।