ক্ষতির মুখে পড়েছেন চরফ্যাসনের চিনা বাদামচাষিরা

প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২২ | আপডেট: ১০:৪৬:অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২২
ক্ষতির মুখে পড়েছেন চরফ্যাসনের চিনা বাদামচাষিরা

অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন চরফ্যাসন উপজেলার চিনা বাদামচাষিরা। খেতে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় অনেকেই অপরিপক্ক বাদাম তুলে ফেলছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টিপাতে উপজেলার বেশির ভাগ জমিতে পানি জমে আছে। এছাড়া উপজেলার কয়েকটি নিচু এলাকার রবিশস্যের ক্ষেত পানিতে ডুবে যায়। এতে অপরিপক্ক চিনা বাদাম পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চরফ্যাসন উপজেলায় উপজেলায় বার্ষিক ৮৫ হাজার ১৯২ হেক্টর আবাদি জমি ও ৩ হাজার ৩৩৭ হেক্টর অনাবাদি জমি রয়েছে। আবাদি জমি মধ্যে এ বছর ৭ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে চিনা বাদাম চাষ হয়েছে।

উপজেলার নিলকমল ইউনিয়নের চর যমুনা গ্রামের কৃষক সালাউদ্দিন (৩৫) বলেন, ‘গত বছর তিনি এক একর জমিতে চিনা বাদাম চাষ করেছি। ভালো ফলন হওয়ায় এবার করেছি তিন একর জমিতে। পোকামাকড়ের আক্রমণের পরও এবার ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টিতে প্রায় সব খেতেই পানি জমেছে। পানিতে পচে যাওয়ার ভয়ে প্রায় অর্ধেক জমির অপরিপক্ক বাদাম তুলে ফেলছি। লাভের পরিবর্তে এবার লোকসান গুনতে হবে।’

একই এলাকার কৃষক মো. মিরাজ (২৭) বলেন, ‘বাদাম চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। গত বছর ৩০ শতাংশ জমিতে ৫০-৬০হাজার টাকার বাদাম চাষ করেছিলাম। আর বাদাম বিক্রি করেছি ৮০ হাজার টাকার। তাই বিগত বছরগুলোতে লাভ হওয়ায় এ বছর আরো ২০ শতাংশ জমিতে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে চিনা বাদাম চাষ করেছি। যার শতাংশ প্রতি খরচ ২ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু বৃষ্টির পানি জমে আমার খেতের বাদাম নষ্ট হচ্ছে। তাই অপরিপক্ক বাদাম তোলা শুরু করেছি।’

চরফ্যাসন বাজারের আড়তদার আবদুল কাইয়ুম মিয়াজি বলেন, ‘আমার আড়তের অন্তর্ভুক্ত চর মাদ্রাজের মাঝি বাড়ির বাছেদ মাঝি, ফারুক মাঝি, জামাল আহন, আবদুল্লাহপুর এলাকার রফিক হাওলাদার, নূরনবি ডাক্তার, নিলকমল ইউনিয়নের চর যমুনা গ্রামের আবুল কালাম, মো. মিরাজসহ ২৫-৩০ জন চাষি আছে। এদেরকে রবিশস্য চাষের জন্য প্রায় বিশ লাখ টাকা দাদন দিয়েছি। তারা রবিশস্য চাষ করে আমার আড়তে বিক্রি করেন। পর্যায়ক্রমে দাদনের টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু এবার অতি বৃষ্টিতে কৃষকদের একাধিক ফসল নষ্ট হয়েছে। এবার দাদনের টাকা উঠবে না।’

চরফ্যাসন উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ঠাকুর কৃষ্ণ বলেন, ‘চরফ্যাসন উপজেলায় রারি চিনাবাদাম ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ চাষ হয়েছে। বাদাম চাষে খরচ কম লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এবার বাদাম চাষ বেশি করেছে। গত বছর বাদামের চাষ হয়েছিল প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে। এবার ৭ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে চিনা বাদাম চাষ হয়েছে। গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে খেতে পানি জমে অনেক খেতের বাদাম নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা ও ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করা হবে। তবে বৃষ্টি না হলে আগামী দশ দিন পর পরিপক্ব বাদাম তোলা যেত।’