বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন দূর্গম চরের কয়েক হাজার মানুষ

প্রকাশিত: ৬:১০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২২ | আপডেট: ৬:১০:অপরাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২২
বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন দূর্গম চরের কয়েক হাজার মানুষ

২শ কোটি টাকার বেশী ব্যয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মধ্যদিয়ে বুড়াগৌরাঙ্গ এবং তেতুলিয়া নদীর তলদেশ ভেদ করে চরফ্যাসনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন মুজিব নগর এবং কুকরী-মুকরীতে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। এই দুটি ইউনিয়নের ৪৪ হাজার মানুষ ৬ হাজার সংযোগ লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধার পাচ্ছেন। বিচ্ছিন্ন কুকরী ও মুজিব নগর ইউনিয়ন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার মধ্যদিয়ে ভোলার দক্ষিণের উপজেলা চরফ্যাসন শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ সুবিধার আওতায় এসেছে।

সাব মেরিন ক্যাবলের কল্যাণে বিদ্যুতায়নের সুযোগ নিয়ে মুজিব নগর ইউনিয়নের সংলগ্ন পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার দূর্গম সীমান্তবর্তী চর কাজল, চর বিশ্বাস এবং চর বোরহান ইউনিয়নগুলোর ঘরে ঘরে জ্বলছে বিদ্যুতের বাতি।

জানা গেছে, ২০২১ সনের মধ্যে প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সুফল পাচ্ছে ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার বিচ্ছিন্নদ্বীপের মানুষ।

ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য মতে, চর কুকরী-মুকরী ও মুজিবনগরে ১০ এমভিএ ২টি উপকেন্দ্র নির্মাণকাজ শেষে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। বুড়াগৌড়াঙ্গ এবং তেতুলিয়া নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে পর্যটনদ্বীপ কুকরী-মুকরী এবং মুজিব নগর ইউনিয়ন এবং সংলগ্ন গলাচিপা উপজেলার জেলার চর কাজল, চর বিশ্বাস ও চর বোরহান ইউনিয়নের মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়া হয়েছে। প্রায় ২শ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এই সরবরাহ লাইনের আওতায় কুকরী-মুকরীতে ২ হাজার, মুজিব নগরে ৪ হাজার, চর কাজল ও চর বিশ্বাসে ৮ হাজার এবং চর বোরহানে ৩ হাজার গ্রাহককে সংযোগ দেয়া হয়েছে। কুকরী-মুকরী, মুজিব নগর, চর কাজল এবং চর বিশ্বাস দক্ষিণ আইচা জোনাল অফিস এবং চর বোরহান চরফ্যাসন জোনাল অফিস থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

চর কুকরীর মাছ ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুতায়নের ফলে মাছ সংরক্ষণ এবং আগাম আবহাওয়ার খবর নিশ্চিত করে পাওয়া যাচ্ছে। আগে আমরা ডিজিটাল যোগাযোগের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। এখন বিদ্যুৎ থাকায় শহরের মানুষের মতো সব সুবিধাগুলো আমাদের হাতের মুঠোতেই চলে আসছে।’

মুজিব নগরের বাসিন্দা বিউটি বেগম বলেন, ‘দূর্গম এবং বিচ্ছিন্ন এই চরে ডিস সংযোগ, ফ্রিজ এবং টিভি চালোনার কথা ৫ বছর আগেও কেউ ভাবেনি। চিন্তসীমার বাহিরের বিষয়গুলো এখন বাস্তবে হয়ে গেছে, আমরা পেয়ে গেছি। যা চরের মানুষকে শহরের সুবিধা দিচ্ছে। রাতে আলোজ্বলমন গ্রামের বাড়িগুলোকে দেখে মনে হচ্ছে-এ যেন কোন শহর।’

কুকরী-মুকরীর চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজন বলেন, ‘কুকরীতে বিদ্যুতায়িত হওয়ায় এখানকার পর্যটন শিল্পে বৈপ্লবীক পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। প্রত্যন্ত এবং দূর্গম এসব গ্রামগুলোর ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় এখানে বিদ্যুৎ নির্ভর কৃষি কাজের বিকাশ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য উৎপাদন, হাস-মুরগী ও গবাদি পশুর খামার এবং তথ্যপ্রবাহ নির্বিঘ্ন হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাস করেও দূর্গম এলাকার মানুষ শহরের আধুনিক জীবন-মানের সুবিধা পেতে শুরু করেছে।’

ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জিএম মো. আলতাপ হোসেন জানান, চরের বাসিন্দারা দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। অফগ্রিড এলাকার মানুষ সহজে বিদ্যুৎ পেয়ে আত্মহারা। আর এ বিদ্যুতের মাধ্যমে বিছিন্ন চরের মানুষের জীবন মানে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।