কাজাখস্তানে সরকার-বিরোধী আন্দোলনে নিহত ১৫৪, গ্রেপ্তার ৬ হাজার

প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২২ | আপডেট: ১০:২৭:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২২
কাজাখস্তানে সরকার-বিরোধী আন্দোলনে নিহত ১৫৪, গ্রেপ্তার ৬ হাজার

কাজাখস্তানে গত কয়েক দিনের সরকার-বিরোধী আন্দোলনে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় অন্তত ১৫৪ জন নিহত হওয়ার খরব পাওয়া গিয়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি রবিবার জানায়, দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এ তথ্য পাওয়া যায়। এর আগে ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, রবিবার কাজাখস্তানের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানায়, দেশটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় ৬০০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ৬ দিন ধরে চলা সহিংসতার পর কাজাখস্তানে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে দেশটির রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এখন রুশ সৈন্যরা পাহারা দিচ্ছে।

তবে রুশ সৈন্যরা কোন কোন স্থাপনা পাহারা দিচ্ছে বা তারা কত দিন থাকবে, তার বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় দাবি করা হয়, ‘দেশের সব অঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে, যদিও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।’ তবে সহিংসতায় কত মানুষ নিহত হয়েছে, তার কোন তথ্য সরকারি ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি।

কাজাখস্তানে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর। কিন্তু পরবর্তীকালে এটি দেশটির ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ পর্যায়ের লোকজনের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রূপ নেয় বলে মনে করা হচ্ছে।

কাজাখস্তানের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী করিম মাসিমভকে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে শনিবার আটক করা হয়।

করিম মাসিমভকে গ্রেপ্তারের খবর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ঘোষণা করে কাজাখস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি। মাত্র গত সপ্তাহেই মাসিমভ এই কমিটির প্রধান ছিলেন। প্রেসিডেন্ট কাসিম জোমার্ট তোকায়েভ তাকে বরখাস্ত করেন।

মাসিমভ দুই দুইবার প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। তাকে সাবেক প্রেসিডেন্ট নুর সুলতান নাযারবায়েভের খুব ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। তবে, নাযারবায়েভ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে যে গুজব, তা নাকচ করে দিয়েছেন তার এক মুখপাত্র।

এদিকে শনিবার ক্রেমলিন বলেছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট তোকায়েভের এক দীর্ঘ টেলিফোন আলাপ হয়েছে। তোকায়েভ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে।

রাশিয়া দেশটিতে সৈন্য পাঠিয়েছে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা চুক্তি, সিএসটিওর অধীনে। রাশিয়া বলছে, কাজাখস্তানে তাদের মিশনের লক্ষ্য সীমিত।

অন্যদিকে, কাজাখস্তানে রুশ সৈন্য পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন । তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, একবার যদি রাশিয়া কোনো দেশে ঢুকে পড়ে, সেখান থেকে তাদের বের করা কঠিন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, কাজাখস্তানে সৈন্য পাঠানোর মাধ্যমে রাশিয়া একটি শক্ত বার্তা দিতে চেয়েছে। সাবেক এই সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রে কোনো ধরনের অস্থিরতা রাশিয়া দেখতে চায় না, এবং প্রয়োজনে তারা সেখানে শক্তি প্রয়োগে দ্বিধা করবে না।

অন্যদিকে, কাজাখস্তানের তেল ও গ্যাস খাতে পশ্চিমা দেশগুলোর বিপুল বিনিয়োগ আছে। কাজেই তারা উদ্বেগের সঙ্গে কাজাখস্তানের ওপর নজর রাখছে।