চক্রান্ত করে কেউ যেন দুর্ভিক্ষ আনতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২১ | আপডেট: ৬:৪৬:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২১
চক্রান্ত করে কেউ যেন দুর্ভিক্ষ আনতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) প্রকাশিত ‘হান্ড্রেড ইয়ার্স অব এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

কেউ যেন চক্রান্ত করে দেশে দুর্ভিক্ষ আনতে না পারে সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২১’ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

করোনা মহামারীর আগ্রাসনে বিশ্বের অনেক দেশেই খাদ্য সমস্যা দেখা দিলেও শেখ হাসিনা জাতির পিতার বক্তব্য- ‘আমাদের মাটি আছে, মানুষ আছে’ উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আমরা যেন আর কোনোদিন খাদ্যাভাবে না ভুগি, সে বিষয়ে সকলকে সচেষ্ট হতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলেই উত্তরবঙ্গ মঙ্গা মুক্ত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উত্তরবঙ্গ আগামীতেও মঙ্গামুক্তই থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আর যেন কখনো দুর্ভিক্ষ না হতে পারে, আর কেউ যেন চক্রান্ত করে দুর্ভিক্ষ আনতে না পারে, সেদিকে বিশেষভাবে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য চাহিদা ইনশা আল্লাহ আমরা পূরণ করে যাব।’

খাদ্যের অপচয় কীভাবে রোধ করা যায় সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খাদ্যের অপচয় কমাতে হবে, অপচয় যেন না হয়। সারা বিশ্বে একদিকে খাদ্যের অভাব অপর দিকে প্রচুর খাদ্যের অপচয় হয়। অনেক দেশ দুর্ভিক্ষের দিকে চলে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই অপচয় যেন না হয় বরং যে খাদ্যগুলো অতিরিক্ত থাকে সেগুলো আবার পুনঃ ব্যবহার করা যায় কীভাবে সে বিষয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে। সে ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে।’

‘উদ্বৃত্ত যে খাদ্য থাকবে বা আপনি খেতে বসেও যে খাবারটা বেশি থাকবে, সেটাও কীভাবে পুনঃব্যবহার করা, অন্য চাহিদা পূরণ করা যায় কি না সেটাকেও গবেষণার মধ্যে রাখা দরকার’ বলেন তিনি।

এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে তা নিশ্চিত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার উন্নয়ন করে যাবে। কিন্তু কৃষিজমি যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও সকলকে খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কৃষি জমি সংরক্ষণ করেই আমাদের উন্নয়ন করতে হবে। কেননা, আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে খাবারে বাংলাদেশে আর কোনো অভাব থাকবে না। তবে গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে।’

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো.মেসবাহুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) প্রকাশিত ‘হান্ড্রেড ইয়ার্স অব এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

তিনি জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ধান ১০০’ অবমুক্ত করেন এবং ‘বঙ্গবন্ধু ধান ১০০’ দিয়ে নির্মিত জাতির পিতার একটি প্রতিকৃতিও উন্মোচন করেন।