আশ্রয়প্রার্থীদের লিবিয়ায় ফেরত : ইতালিতে জাহাজের ক্যাপ্টেনের কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২১ | আপডেট: ৬:৪০:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২১
আশ্রয়প্রার্থীদের লিবিয়ায় ফেরত : ইতালিতে জাহাজের ক্যাপ্টেনের কারাদণ্ড
ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করার পর ১০১ জন আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসীকে লিবিয়ার কোস্টগার্ডের হাতে তুলে দেওয়া এক জাহাজের ক্যাপ্টেনকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ইতালি। ইতালির আদালতে এই ধরনের মামলার শুনানি ও সাজা এবারই প্রথম হয়েছে।

জিউসেপ সোতগিউ নামের ওই ইতালীয় ক্যাপ্টেন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছন। কারণ আশ্রয়প্রর্থীদেরকে এমন দেশে জোরপূর্বক ফিরতে বাধ্য করা হয়েছে যেখানে তাদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ।

৩০ জুলাই, ২০১৮ তারিখে ওই আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসীদেরকে উদ্ধারের সময় তিনি লিবিয়া থেকে তেল সরবরাহকারী একটি ইতালীয় পতাকাযুক্ত অফশোর জাহাজ অ্যাসো ২৮ এর পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। এসময় তিনি সমুদ্রে ভাসমান একটি ডিঙ্গি নৌকা থেকে ৪ জন গর্ভবতী নারী এবং ৫টি শিশু সহ ১০১ জন আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসীকে উদ্ধার করেন এবং তাদের ত্রিপোলি বন্দরে লিবিয়ার কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করেন।

উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, যদিও এটি ‘সঠিক পদক্ষেপ’ হচ্ছে তথাপি এই রায়ে শুধু একজন ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু লিবিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব নিয়ে কোনো কথা বলা হয়নি।

জার্মান বেসরকারি সংস্থা সি ওয়াচের ইতালির মুখপাত্র জর্জিয়া লিনার্ডি আল জাজিরাকে বলেন, ‘আপনি লিবিয়ান কোস্টগার্ডের কাছে আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসীদের হস্তান্তর করার জন্য একজন ব্যক্তিকে নিন্দা করছেন, তার মানে লিবিয়ার সেই কর্তৃপক্ষের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন’।

ইতালি এবং ইইউ বিশেষভাবে অভিবাসীদের প্রবাহ বন্ধ করতে লিবিয়ার কোস্টগার্ডকে অর্থায়ন করেছে ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে। জুলাই মাসে সী ওয়াচের সদস্যরা লিবিয়ার সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষকে একটি জনবহুল অভিবাসী নৌকার পেছনে ধাওয়া করার এবং গুলি চালানোর দৃশ্য ভিডিও করেছিল। নৌকাটির ভূমধ্যসাগর সাগর অতিক্রম করে ইউরোপে যাওয়া ঠেকানোর চেষ্টার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল এতে।

জর্জিয়া লিনার্ডি অভিবাসীদের লিবিয়ায় ফেরত পাঠানোকে একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য করায় বিচারকদের প্রশংসা করেছেন। তবে তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, তথাকথিত লিবিয়ান কোস্টগার্ডের সঙ্গে সহযোগিতা করা ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না।

এই রায়ের ফলে ওই ক্যাপ্টেনের প্রকৃতই জেলে যেতে হবে এমন নয়, কারণ তিনি তার কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন।

জর্জিয়া লিনার্ডি বলেন, ‘ক্যাপ্টেনকে দোষী সাব্যস্ত করা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু যে এই আদেশ দিয়েছে তারও শাস্তি হওয়া উচিত’।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (মেডিসিনস সানস ফ্রন্টিয়ার্স, বা এমএসএফ) বৃহস্পতিবারের রায়কে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা করেছে। এমন সময়ে এই রায় এল যখন সমুদ্রে পরিচালিত এনজিওদের উদ্ধার অভিযানের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে।

এই বছরের শুরুর দিকে সেভ দ্য চিলড্রেন, এমএসএফ এবং জার্মান সংগঠন জুজেন্ড রেটেট অবৈধ অভিবাসনকে সাহায্য করার অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছিল।

এমএসএফ-এর প্রতিনিধি ফ্রউক ওসিগ আল জাজিরাকে বলেন, মানুষের এটা বোঝা উচিৎ যে ‘লিবিয়া এমন কোনো জায়গা নয় যেখানে মানুষকে ফেরত পাঠালে তারা নিরাপদ থাকবে’।

ওসিগ বলেন, তিনি আশা করেন যে, এই রায় এনজিওগুলোকে ভবিষ্যতে অবাধে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে সহায়তা করবে।

‘ইউরোপীয় দেশগুলোকে অবশ্যই এই শাস্তির স্বীকৃতি দিতে হবে এবং স্বীকার করে নিতে হবে যে, লিবিয়ায় অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে মানুষের জীবনকে বিপদাপন্ন করা এবং একটি গুরুতর অপরাধ’।