কুমিল্লায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, তদন্তে কমিটি

প্রকাশিত: ১০:৩১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২১ | আপডেট: ১০:৩৪:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২১
কুমিল্লায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, তদন্তে কমিটি

কুমিল্লায় বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয় পূজামণ্ডপে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটিও।

এ ঘটনায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার বিষয়ে একটি খবর আমাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, কুমিল্লা শহরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তৈরি একটি মণ্ডপে কোরআন অবমাননার অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ ঘটনায় বুধবার সকালে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েকটি মণ্ডপে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ, কান্দিরপাড়, চকবাজার ও দারোগাবাড়ি রোডে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তারা জানায়, নানুয়ার দিঘির পাড় এলাকায় দর্পণ সংঘের তৈরি করা পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে পুরো শহরে। বন্ধ হয়ে যায় নগরীর প্রতিটি সড়কের দোকানপাট। সকাল ৭টায় শুরু হওয়া উত্তেজনা চলে দিনব্যাপী। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরিস্থিতি বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবির কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফজলে রাব্বি বলেন, কুমিল্লায় যাতে কোনো ‘আনরেস্ট’ তৈরি না হয়, সে জন্য দুপুরে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট, গুলি ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। বিক্ষুব্ধরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি ও কয়েকজন সদস্যসহ অন্তত ৫০ ব্যক্তি আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয় জুয়েল নামে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের এক কর্মীকে। তিনি বিক্ষুব্ধদের হামলার শিকার হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৩ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা নগরীর নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দর্পণ সংঘের পূজামণ্ডপে ঘটনার সূত্রপাত। সকালে ওই পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে পূজা উদযাপনকারীদের উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই পক্ষ দাবি তোলে পূজামণ্ডপ সরিয়ে নেয়ার জন্য। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করে। এ খবর দ্রুত জানাজানি হলে  সকাল ১১টায় হঠাৎ বিক্ষুব্ধদের একটি অংশ হামলায় জড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, আমরা মুসলমান ভাইদের বলব, এ বিষয়ে নিয়ে আর কোনো উচ্ছৃঙ্খল ঘটনা যেন তৈরি না হয়। প্রশাসন আমাদের সঙ্গে বসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ বলেন, মণ্ডপে ধর্মগ্রন্থ রাখার বিষয়ে যে জড়ি তাকে তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক। পূজামণ্ডপে উত্তেজনার ঘটনা তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহাদাত হোসাইনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মূল ঘটনাটি আইডেনটিফাই করতে প্রশাসনের সব স্তরের সদস্যরা কাজ করছেন। নিয়োজিত রয়েছে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি। বিকেলে কুমিল্লার প্রতিটি পূজামণ্ডপে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।