হিলি স্থলবন্দরে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম

প্রকাশিত: ৬:৪৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২১ | আপডেট: ৬:৪৪:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২১
হিলি স্থলবন্দরে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম

হঠাৎ করেই এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী আমদানি করা ও দেশীয় পেঁয়াজের বাজার। ইতিমধ্যেই দাম বেড়ে প্রায় হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে মসলাজাতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্য।

তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের তদারকি ও বন্দর দিয়ে আগের তুলনায় আমদানি বাড়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। একদিন আগেও বন্দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাইকারীতে (ট্রাক সেল) ৪৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও তা কমে ৪৬ টাকায় নেমেছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রাজু আহম্মেদ ও ইসরাফিল হোসেন জানান, দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় ও দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি করা পেঁয়াজের বেশ চাহিদা তৈরি হয়েছিল।

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে বন্যা হওয়ার কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হয়। ফলে আগের মতো সব কটি প্রদেশ থেকে পেঁয়াজ না আসায় ভারতের বাজারেই সরবরাহ কমায় দাম বাড়তি হয়েছে। এতে বাড়তি দামে আমদানির কারণে দেশের বাজারেও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান তারা।

এ ছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিলিসহ দেশের সব কটি বন্দরে ৪-৬দিন মেয়াদে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। এ কারণে দেশের মোকামগুলোতে অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজ কিনে মজুত করছিলেন। সব মিলিয়ে পেঁয়াজের চাহিদা বৃদ্ধি ও সে তুলনায় সরবরাহ না থাকায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল। সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০টাকা কেজির পেঁয়াজ বাড়তে বাড়তে ৪৭ টাকায় দাঁড়িয়েছিল।

ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। একইসঙ্গে দামের ঊর্ধ্বগতি রুখতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজের বাজারগুলোতে প্রশাসন তদারকিতে নেমেছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করছেন। যার কারণে মোকামগুলোতে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে চাইছে না। এর প্রভাবে চাহিদা কমায় দাম কমতে শুরু করেছে। এ ছাড়া অনেকেই প্রচুর পেঁয়াজ কেনার ফলে চাহিদা কমে দামের ওপর প্রভাব পড়ছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি অব্যাহত রয়েছে। বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। মূলত ১২ অক্টোবর থেকে লম্বা সময় ধরে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা রয়েছে, এ কারণে পেঁয়াজের আমদানি কিছুটা বেড়েছে।

আরও জানান, গত সপ্তাহে বন্দর দিয়ে যেখানে ৫ থেকে ১০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো বর্তমানে তা বেড়ে ২০ থেকে ২৫ ট্রাকে দাঁড়িয়েছে। পেঁয়াজ যেহেতু দ্রুত পচনশীল একটি পণ্য, তাই এটি যেন দ্রুত বন্দর থেকে খালাস হয় সে জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছে।