চরফ্যাসনে ড্রাগন চাষে সফল দুই সহোদর

আমিনুল ইসলাম আমিনুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০২১ | আপডেট: ৭:৪৫:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০২১
চরফ্যাসনে ড্রাগন চাষে সফল দুই সহোদর

বিদেশী ফল ড্রাগণ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চরফ্যাসন উপজেলার কৃষকদের। অনেকেই ড্রাগন চাষ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ড্রাগন চাষে সফল হয়েছেন উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভাসানচর এলাকায় দুই সহোদর রাসেল ও মামুন পন্ডিত।

শখের বশে ফসলী জমিতে এই ড্রাগন ফল চাষ করেছেন তারা। ইউটিউব এবং অনেকের ছাদ বাগানে চাষের পদ্ধতি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এই ড্রাগন ফল চাষ করেছেন বলে জানান ভাসানচর এলাকার বাসিন্দা মামুন পন্ডিত।

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাকটাস গাছের মতো দেখতে ড্রাগনের সবুজ গাছগুলো বেড়ে ইতোমধ্যে সিমেন্টের খুঁটির মাথা ছুঁই ছুঁই করছে। ড্রাগন চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দেড় বছরেই ড্রাগনের চারাগুলো বেশ পরিপক্ব হয়ে ফুল আর ফলে ভরে গেছে খামার।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ঠাকুর কৃষ্ণ দাস জানান, ‘প্রতিটি ড্রাগন গাছ প্রায় পনেরো বছর পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে। প্রতিটি ফলের ওজন হয় ২০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।’

ড্রাগন ফলের চাষি মামুন পন্ডিত বলেন, ‘১৬ শতাংশ জমিতে ৫৪০টি ড্রাগন গাছ লাগিয়েছি। প্রত্যেকটি গাছই এখন ফুলে ফলে ভরা। ইতোমধ্যে প্রায় এক মণের বেশি ড্রাগন ফল প্রতি কেজি ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। অন্য ফসলের পাশাপাশি ড্রাগন চাষ অধিক লাভজনক।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু হোসাইন বলেন, ‘এখানকার মাটি এবং আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য বেশ উপযোগী হওয়ায় কৃষিতে ড্রাগন চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। চরফ্যাশন উপজেলায় দুই একর জমিতে ড্রাগন চাষ হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ছাদ বাগানে চাষ হয়েছে। পুষ্টিগুণ, আকার-আকৃতি ও দামের কারণে বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ক্যাকটাস জাতীয় গাছ হওয়ায় রোগ বালাইও কম। তাই চাষিরা সহজে এই ফল চাষ করতে পারে। ড্রাগন ফল চাষে এখানকার মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। উপজেলার আসলামপুর, মাদ্রাজ, আবদুল্লাপুর, নুরাবাদ এলাকার দশজন কৃষককে ড্রাগন চাষের পরামর্শ ও সহযোগিতাসহ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’