তালেবান নিয়ে মতবিরোধের জেরে সার্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক বতিল

প্রকাশিত: ৮:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১ | আপডেট: ৮:৫৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১
তালেবান নিয়ে মতবিরোধের জেরে সার্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক বতিল

তালেবানকে বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগদানে পাকিস্তানের আবেদন নিয়ে মতবিরোধের জেরে সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশনের (সার্ক) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। খবর: এনডি টিভি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চলমান অধিবেশনের ফাঁকে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। পাকিস্তান চেয়েছিল, বৈঠকে তালেবান আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করুক। কিন্তু ভারত এবং জোটের আরও কয়েকটি সদস্য দেশ তাতে আপত্তি জানায়। বিষয়টি নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বৈঠক বাতিল করা হয়।

পাকিস্তান আরও দাবি করেছিল সার্কের এবারের আয়োজক নেপালকে লিখিত দিতে হবে যে, জাতিসংঘে আফগানিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী গোলাম ইসাকজাইকে সার্ক বৈঠকে উপস্থিত হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু নেপাল পাকিস্তানের সেই দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে।

এবারের বৈঠকের আয়োজক ছিল নেপাল। সাধারণত প্রতিবারই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে সার্কের মন্ত্রীপর্যায়ের এ বৈঠক হয়। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, আফগানিস্তান ছাড়াও বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা সার্কের সদস্য।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই বলছে, জোটের বেশিরভাগ দেশই চেয়েছিল, এবারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে আফগানিস্তানের চেয়ার খালি থাকুক। পাকিস্তান তাতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বৈঠক ভেস্তে যায়।

ভারতীয় এই বার্তা সংস্থা লিখেছে, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতানৈক্যের কারণে বৈঠক বাতিল করা হয়েছে বলে তাদের প্রশ্নে উত্তরে জানিয়েছে সার্ক সচিবালয়।

ভারত সরকারের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেন, পাকিস্তান তালেবানদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার সুযোগদানের জন্য জোরাজুরি করছিল, কিন্তু অন্য কোনো দেশ এই দাবিতে রাজি হয়নি।

আফগান জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তালেবানকে ভারত এখনো স্বীকৃতি দেয়নি।

তালেবানের সরকার এখনও আন্তর্জাতিক মহলের স্বীকৃতি পায়নি। গতমাসে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া তালেবানের অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যই জাতিসংঘের কালো তালিকায় আছেন।

রাশিয়া এবং চীনও এখনো তালেবানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি।

তালেবান জাতিসংঘের মহাসচিবকে চিঠি লিখে চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ চেয়েছে এবং কাতারের দোহা ভিত্তিক তালেবান মুখপাত্র সুহেল শাহীনকে জাতিসংঘে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তালেবান অনুমতি পাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। জাতিসংঘের নিয়ম হলো, কমিটি যত দিন নতুন সিদ্ধান্ত না নিচ্ছে, তত দিন পুরোনো দূতই বহাল থাকবেন। তাই আশরাফ গনির আমলে নিযুক্ত আফগানিস্তানের দূতই আগামী সোমবার কথা বলবেন। যদিও তালেবান জানিয়ে দিয়েছে, আশরাফ গনির আমলে নিযুক্ত দূত আর আফগানিস্তানের প্রতিনিধি নন।

জাতিসংঘে গ্রহণযোগ্যতা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য তালেবানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। যার ফলে নগদ অর্থের সংকটে থাকা আফগান অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাবে তালেবান।

তালেবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিরও জাতিসংঘ এবং এর আওতাধীন সংস্থার বৈঠকগুলোতে উপস্থিত থাকার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাও কম।