নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২১ | আপডেট: ৯:৩৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২১
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়

বাংলাদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া কেমন ভুগেছে, যে অনুযায়ীই প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। তবে মাঠে তেমন কিছু লক্ষণীয় হলো না। পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে কিউইদের হেলায় হারাল বাংলাদেশ।

বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড এদিন মাত্র ৬০ রানেই গুটিয়ে যায়। যা টি-টোয়েন্টিতে দলটির সর্বনিম্ন স্কোর।

অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে হারানোর তাজা স্মৃতি সঙ্গী করে এই সিরিজ খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। অজিদের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে তো মাত্র ৬২ রানেই গুটিয়ে দিয়েছিল টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ যেখানে শেষ করেছিল, নিউজিল্যান্ড সিরিজ যেন ঠিক সেখান থেকেই শুরু করল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

এত দিন টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ড দল বাংলাদেশের জন্য ছিল বড় ধাঁধা হয়ে। এ ম্যাচের আগে ১০ বারের মুখোমুখি দেখায় সব কটিতে হেরেছিল বাংলাদেশ। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন তিনটি স্কোরও (৭০, ৭৬, ৭৮) এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই।

সেই নিউজিল্যান্ডকে কুপোকাতের সেরা সুযোগ নিয়েই এবার মাঠে নামা বাংলাদেশের। ঘরের মাঠে এমনিতেই এখন যে কোনো দলের বিপক্ষে কঠিন প্রতিপক্ষ সাকিব আল হাসানরা। তারওপর নিউজিল্যান্ড দল এসেছে তাদের শীর্ষ ক্রিকেটারদের ছাড়াই।

দলটির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডের কেউ নেই এই সফরের দলে। সব মিলে ফেভারিট হিসেবেই এই সিরিজ খেলতে নামা বাংলাদেশের। শুরুটাও হলো তাদের প্রত্যাশিত জয়ে।

যদিও ছোট্ট রান তাড়া করতে মাত্র ৭ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম বলেই ফিরে যান মোহাম্মদ নাঈম (১)। কোল ম্যাকনচির শিকার তিনি। পরের ওভারে এজাজ প্যাটেলের শিকার হয়ে ফেরেন লিটন দাস (১)।

সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম মিলে শুরুর এই ধাক্কা সামলান। তৃতীয় উইকেটে ৩০ রান যোগ করেন দুজন। সাকিব ২৫ রান করে ফিরলে এই জুটির পতন হয়। রাচিন রবিন্দ্রর শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করা সাকিব। ২ চারে সাজান নিজের ইনিংস। এর আগে তিনি বল হাতেও নেন ২ উইকেট।

পরে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মিলে ৫ ওভার বাকি থাকতে দলের জয় নিশ্চিত করেন। মুশফিক ২৬ বলে ১ চারে অপরাজিত ১৬ ও মাহমুদউল্লাহ ২২ বলে ২ চারে অপরাজিত ১৪ রান করেন।

এর আগে বাংলাদেশের স্পিন ঘূর্ণিতে ভেঙে পড়েছিল নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং মেরুদণ্ড। দাঁড়াতেই পারেননি দলটির টপ অর্ডার ব্যাটাররা। মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যর্থ বাংলাদেশের পেসারদের বিপক্ষে। ফলে খুব অল্পতেই গুটিয়ে যাওয়া কিউইদের।

বাংলাদেশের স্পিন ঘূর্ণিতে প্রথম ৪ ওভারেই মাত্র ৯ রান যোগ করতে চার উইকেট হারিয়েছে কিউইরা। মেহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ ও সাকিব আল হাসানের সঙ্গে উইকেট উৎসবে যোগ দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও। তাতে ১৩ ওভারে ৪৯/৭-এ পরিণত হয় দলটি। এরপর মোস্তাফিজুর রহমানের টানা তিন শিকারে ৩.১ ওভার বাকি থাকতেই অলআউট হয় কিউইরা।

সফরকারীদের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৮ রান করে এসেছে টম ল্যাথাম ও হেনরি নিকোলসের ব্যাট থেকে। অর্ধেকের বেশি রান এসেছে এই দুজনের ব্যাট থেকেই। বাকিদের কেউই দুই অঙ্কের স্কোর করতে পারেননি।

বোলিংয়ে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে সফল মোস্তাফিজুর রহমান। ২.৫ ওভার বল করে মাত্র ১৩ রান খরচায় নিয়েছেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন নাসুম আহমেদ, সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ১ উইকেট পেয়েছেন মেহেদি হাসান।

ব্যাটে-বলে আলো ছড়িয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন সাকিব। একই ভেন্যুতে শুক্রবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল।