যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায় তালেবান

প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২১ | আপডেট: ৫:০৭:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২১
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায় তালেবান

যুদ্ধ পরবর্তী নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায় তালেবান। তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ মঙ্গলবার হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাংবাদিকদের বলেন, “ইসলামিক আমিরাত আমেরিকানদের সাথেও একটি ভাল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক চায়”।

তালেবানরা দেশে তাদের নিয়ন্ত্রণ সংহত করার জন্য অনেক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তবে ২০ বছরের যুদ্ধ শেষ করে আমেরিকান সৈন্যরা কাবুল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা নতুন সরকারের বিবরণ ঘোষণার কাছাকাছি ছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি।

মুজাহিদ আরো জানান যে, তাদের শীর্ষস্থানীয় আধ্যাত্মিক নেতা হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদার নেতৃত্বে কান্দাহারে দলের লিডারশিপ কাউন্সিলের তিন দিনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহার তালেবানের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি।

মুজাহিদ সাংবাদিকদেরকে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, “ওই বৈঠকে সরকারি কোষাগারের জিনিসপত্র ও অবকাঠামো সুরক্ষা এবং জনগণের সাথে ভাল আচরণ ও সুবিধা প্রদানের বিষয়ে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আফগানিস্তানে একটি নতুন ইসলামী সরকার এবং মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়েও পরামর্শ অনুষ্ঠিত হয়েছে”।

যুক্তরাষ্ট্র চলে যাওয়ায় তালেবান নেতাদের মধ্যে আনন্দের মেজাজ সত্ত্বেও, এবার দেশ শাসনের কঠিন অংশটি শুরু হয়েছে। একটি কার্যকরী সরকার প্রতিষ্ঠা, কাবুল বিমানবন্দর পরিচালনা, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি ঠেকানো, আমেরিকার সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী ও স্থানীয় ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর শাখা উভয়ের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ এড়ানো সহ অনেক সংকট মোকাবিলা করতে হবে তাদের।

মঙ্গলবার, কাবুলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে বলে মনে হয়েছে। রেস্তোরাঁ এবং ফার্মেসিগুলি আবার খোলা হয়েছে, রাস্তায় বিপুল জনসমাগম দেখা যাচ্ছে এবং রাজধানীর রাস্তাগুলিতে যানজট দেখা দিয়েছে। এসময় রাস্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেলে যাওয়া মার্কিন সেনাদের পোশাক এবং সামরিক সরঞ্জামে সজ্জিত হয়ে সশস্ত্র তালেবান রক্ষীদের পিকআপ ট্রাকে করে টহল দিতেও দেখা গেছে।

ব্যাংক এবং এটিএমগুলি পুনরায় খোলা হলেও, নাগরিকরা তাদের অর্থ পেতে হিমশিম খাচ্ছে। কাবুলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় খাবার এবং ওষুধের দাম গত কয়েক সপ্তাহে ৫০% পর্যন্ত বেড়েছে। এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে কাবুলে বিমান-ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ পরিষেবাগুলি জনমানবহীন হয়ে পড়ায় সারা দেশে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে।

কাসিম মোহসেনি নামে কাবুলের এক খুচরা ওষুধ বিক্রেতা তালেবানদের স্বাগত জানালেও খাদ্য ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান। কাবুল থেকে ফোনে তিনি টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে বলেন, “তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভালো দেখাচ্ছে কিন্তু মানুষের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা এবং সমস্যা হচ্ছে অর্থনীতি ও চাকরির অভাব। এ ছাড়া বাজারের জিনিসপত্রের দামও বেড়েছে অনেক। যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের প্রতিষ্ঠিত সরকার আফগানিস্তানের জন্য কী করেছে? তাদের সম্পর্কে একটি ভাল কথা বলুন। কিছুই না। আগের সরকার ছিল একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার- আগের সরকারের সকল শাসক এবং নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রের টাকায় দুর্নীতিগ্রস্ত করা হয়েছিল”।

তালেবানরা এবার অনেক মধ্যপন্থী সুরে কথা বলছে, তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে নারীরা শরিয়াহ আইনের সীমানার মধ্যে কাজ করতে এবং স্কুলে যেতে পারবে। সেইসাথে তাদের সকল প্রাক্তন আফগান শত্রুদের জন্য ক্ষমা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সুসম্পর্ক রাখার ঘোষণাও দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যে, তালেবানের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক এখন তালেবানদের আচরণের ওপরই নির্ভর করছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আফগানিস্তানকে যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা ছিল তা আর দেয়নি। তালেবানদের জন্য এখন অর্থের একটি সম্ভাব্য উৎস হল চীন, যারা মঙ্গলবার তালেবানদের সাহায্য করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন মঙ্গলবার বেইজিংয়ে বলেন, চীন আশা করে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সহযোগিতা বাড়াবে এবং আফগানিস্তানকে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক, জীবিকা নির্বাহের উপায় এবং মানবিক সহায়তা দেবে যাতে তালেবানরা দেশটিতে শান্তি স্থাপন ও পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে।