তেতুঁলিয়া নদীর তীব্র ভাঙ্গনের কবলে বোরহানউদ্দিন উপজেলার দু’টি ইউনিয়ন

প্রকাশিত: ৮:০৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২১ | আপডেট: ৮:০৮:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২১
তেতুঁলিয়া নদীর তীব্র ভাঙ্গনের কবলে বোরহানউদ্দিন উপজেলার দু’টি ইউনিয়ন

চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু হতে তেতুঁলিয়া নদী উত্তাল হওয়ায় তীব্র ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে বসতি ঘর-বাড়ী। এতে বহু ঘর-বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে অনেকে নি:স্ব হয়ে পড়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বহু স্থাপনা।

ভোলা বোরহানউদ্দিন উপজেলার সীমান্তবর্তী তেতুঁলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে কুতুবা ও গংগাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নদী গর্ভে চলে গেছে এবং কিছু গ্রাম এখন হুমকির মুখে রয়েছে। ওই দুই ইউনিয়নের মানুষের দিন কাটছে আতংকের মধ্যে। কখন জানি তাদেরও ভিটেমাটি সহ ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় এ চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। ভেঙ্গে যাচ্ছে পাকা রাস্তা।

গংগাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আওলাদ হোসেন জানান, আমাদের আশপাশে সব ঘর বাড়ী তেতুঁলিয়া নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমার পাশের বাড়ীর মোকলেছুর রহমান নামের এক ব্যক্তির ঘর কয়েকদিন আগে নদীতে ভেঙ্গে যায়। সে এখন অন্যত্র চলে গেছে। এ বর্ষা মৌসুমে অব্যাহত ভাঙ্গনে আমাদের পুকুর নদী গর্ভে চলে গেছে। আর কিছু দিন এ ভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে ঘর-বাড়ী নদীতে চলে যাবে। আমরা এখন কোথায় যাবো। পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই দু:চিন্তায় আছি। ঘর ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে আমার ছোট বাচ্চা সহ বউকে শ্বশুর বাড়ীতে পাঠিয়ে দিয়েছি। দ্রুত তেতুঁলিয়া নদীতে স্থায়ী ব্লক না দিলে এ এলাকাগুলো নদীতে তলিয়ে যাবে।

ছোট মানিকা ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. হামিম, সুমাইয়া, মারজিয়া জানান, আমাদের এলাকার অধিকাংশ তেতুঁলিয়ী নদীর গর্ভে চলে গেছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে আসতে ভয় লাগে। কখন জানি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
এছাড়া ছোট মানিকা ফাজিল মাদ্রাসা সংলগ্ন ওই নদীর পাড়ে ৬ একর ৪০ শতাংশ জমি’র পুকুর লীজ নিয়ে মাছের ঘের করে মাছ চাষ করছেন ৪ বন্ধু মিলে। তারা প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ওই ঘেরে মাছ চাষ শুরু করেছেন। তারাও খুবই দু:চিন্তায় রয়েছে। যে কোন সময় তাদের ওই মাছের ঘের তেতুঁলিয়া নদীর গর্ভে চলে যেতে পারে।

ছোট মানিকা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. সাইফুল উল্লাহ জানান, তেতুঁলিয়া নদী হতে আমাদের প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব ১০০ হতে ১৫০ মিটার। এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে খুবই চিন্তায় রয়েছে। তিনি তেতুঁলিয়া নদীতে স্থায়ী ব্লক নির্মাণ করে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বহু স্থাপনা রক্ষার দাবী জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

গংগাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রিয়াজ জানান, তেতুঁলিয়া নদীর তীব্র ভাঙ্গনে ধানীভাঙ্গা ও ধারিয়া গ্রামের অধিকাংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। এখন ১, ২, ৩নং ওয়ার্ডের কিছু অংশ রয়েছে ওই এলাকাগুলোও খুবই হুমকি মুখে রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী ব্লক দিয়ে এ এলাকার লোকজনের ঘর-বাড়ী রক্ষার দাবী জানাচ্ছি।

কুতুবা ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জোবায়েদ মিয়া জানান, তেতুঁলিয়া নদীর ভাঙ্গনে ২,৩ ও ৫নং ওয়ার্ড সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হুমকি মুখে পড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল হওয়ায় বেড়িবাঁধের বাহিরে অনেক ঘর-বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার ঘর বাড়ী হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছে। তিনি আরোও জানান, দ্রুত স্থায়ী ব্লক না দিলে এসকল ওয়ার্ডগুলো নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

এব্যাপারে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান জানান, ভোলা চারদিকেই নদী। নদীবেষ্টিত এলাকার মধ্যে মেঘনা কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে মেঘনা নদীর পাশাপাশি তেতুঁলিয়া নদীর ওই সকল এলাকাও নজরে আনা হচ্ছে। ধাপে ধাপে ঝুকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী বøক নির্মাণ করা হবে।