মনপুরায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়ে খুশি ২৫০ ভূমিহীন পরিবার

ছালাহউদ্দিন ছালাহউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২১ | আপডেট: ৪:৫৫:অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২১
মনপুরায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়ে খুশি ২৫০ ভূমিহীন পরিবার

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরে থাকি, আর আমাদের কোন কষ্ট নেই। অগে খুব কষ্টে ছিলাম। বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে খুব কষ্ট করেছি। এখন খুব আরামে থাকি। ঘর পেয়ে আমরা খুব খুশি। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা নামাজ পড়ে দোয়াকরি শেখ হাসিনাকে। আমাগোরে বিনা পয়সায় সুন্দর ঘর করেদিছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন আমাদের কোন চিন্তা নাই।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার চরফৈজুদ্দিন বেড়ীর পাশে খাসজমিতে ঘর পেয়ে খুব খুশি রহিমা বেগম (২৫)। মা-বাবা ও স্মামী নেই রহিমা বেগমের। এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে থাকতেন অন্যের বাড়ীতে ঝুপড়ি ঘর উঠিয়ে। সাবরেজিঃঅফিসে দীর্ঘদিন ধরে বুয়ার কাজ করেন। ঘর বরাদ্ধ পেয়ে ঘরে উঠে চোখেমুখে খুশির ঝিলিক দেখা যায়। জানতে চাইলে দুহাত উঠিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করেন। বলেন বুয়ার কাজ করে জীবনটা কাটিয়ে দিচ্ছি ঝুপড়ি ঘরের মধ্যে। টাকা পয়সার অভাবে ঘর করতে পারিনি। বর্ষা ও শীতে অনেক কষ্ট করেছি। এখন প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরে থাকছি আর কষ্ট হবেনা।

উপজেলার হাজিরহাট বাধের বাজার পাশে বেড়ীর ডালে বসবাসরত পিয়ারা বেগম(৩৫)। তার স্মামী ও বাবা নেই। এক ছেলে ও মাকে নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর যাবত বেড়ীর ডালে কোনমতে ঘর উঠিয়ে থাকতেন। বরাদ্ধকৃত ঘর পেয়ে খুব খুশি তিনি। এখন মাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরে আছি। আর আমাদের কষ্ট নেই।

চরফৈজুদ্দিন ৭নং ওয়ার্ডে নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়ে খুব খুশি ৭০ বছর বয়সী হামেলা বেগম। প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়ে আনন্দিত। চোখেমুখে শুধু হাসির ঝিলিক। ঘর পেয়ে আবেগ আপ্লুত কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার কেউ নেই। সরকার আমাকে একটা ঘর দিয়েছে। আমি নামাজ পড়ে দোয়া করি। এখন আমার কোন চিন্তা নাই। শেখ হাসিনার প্রতি আমরা খুশি।

সোনারচরে নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়ে খুব খুশি আব্দুল করিম ডিপটু। আজ আমরা প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘরে থাকছি। আমরা নদী ভাঙ্গা মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসহায় মানুষের জন্য বিনা মূল্যে ঘর করে দিয়েছেন। আজ আমরা বউ-বাচ্চা নিয়ে নিরাপদে থাকছি। আমাদের কোন কষ্ট নেই। আমরা খুব খুশি। প্রায় প্রতিদিন আমাদের খোজ খবর নেওয়ার জন্য ইউএনও স্যার আসেন। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরে আমরা খুব ভালো আছি।

মুজিবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ভোলার মনপুরায় ২শত ৫০ ভূমিহীন ও গৃহহীণ পরিবারের জন্য নির্মিত হয়েছে আধা-পাকাটিনেরঘর । প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সরকারী খাসজমিতে এসব ঘর নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপহার নির্মানাধীন ঘরগুলো ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপহার (ঘর) পেয়ে বসবাস করছেন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীম মিঞা অক্লান্ত পরিশ্রম করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘরগুলো হস্তান্তর করে উপকার ভোগীদের মাঝে বুঝিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরগুলোতে বসবাস করছেন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মানুষ। ঘর পেয়ে খুব খুশি উপকার ভোগীরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ইলিয়াছ মিয়া জানান, প্রতিটি পরিবারের জন্য দুইশতাংশ খাসজমি বরাদ্ধ দিয়ে ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। বাথরুম, গোসলখানা, বারান্দাসহ ২ কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি আধা-পাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা। উপজেলার ১নং মনপুরা ইউনিয়নে ৫৭টি, হাজিরহাট ইউনিয়নে ৮০টি, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে ৪৬টি ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে ৪৭টি ঘর নির্মানের কাজ শেষ হয়েছে। এখন নির্মিত ঘরগুলোতে মানুষ বসবাস করছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর নির্মানের কাজ শেষ হয়েছে। প্রতি পরিবারের জন্য ২ শতাংশ খাসজমির কবুলত রেজিঃ করে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। উপকারভোগীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন বরাদ্ধপ্রাপ্ত উপকারভোগীরা ঘরে বসবাস করছেন। ঘর পেয়ে খুব হাসি-খুশি উপকারভোগীরা। আমি নিয়মিত তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছি। সাধ্যমত সবাইকে সহযোগীতা করছি। প্রধানমন্ত্রীর উপহার (ঘর) পাওয়া মানূষগুলো ভালো আছেন।