কোম্পানীগঞ্জে আ.লীগের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২১ | আপডেট: ৭:৩২:অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২১
কোম্পানীগঞ্জে আ.লীগের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার চরএলাহী বাজার থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে চরএলাহী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চরএলাহী গ্রামের ৫-৬ বাড়িতে। এতে ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ ছয়জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন- চরএলাহী ৪নং ওয়ার্ডের হেলাল মেম্বারের ছেলে মো. রুবেল (২৫), মৃত আব্দুল খালেক মেম্বারের ছেলে বাহার উদ্দিন (৩৬), সিরাজ আলমের ছেলে সবুজ (৩৮), জইধর মিয়ার ছেলে ইউসুফ (৩৩), মো. বেলালের ছেলে ফিরোজ (২৪) ও জামাল উদ্দিনের ছেলে ইলিয়াছ (২২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের সমর্থকদের মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বিবদমান অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এই ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা গণির অনুসারীরা প্রথমে চরএলাহী বাজারে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চেয়ারম্যান রাজ্জাকের কয়েকজন অনুসারীকে বেধড়ক মারধর করে সেখানে অবস্থান নিতে চেষ্টা করে।

পরে রাজ্জাকের অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে গণির অনুসারীদের ওপর পাল্টা হামলা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, গোলাগুলি ও ককটেল ছোড়ারও ঘটনা ঘটে।

চরএলাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গণি সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী। অন্যদিকে চরএলাহী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

গণির অনুসারী চরএলাহী ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হেলাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জাক, তার ভাই খোকন, জব্বর ও শাহীন ও কালামের নেতৃত্বে তার বাড়িসহ আরও তিনটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়।

এ সময় হামলাকারীরা প্রতিপক্ষের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে গুলি চালালে ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ বেশ কয়েকজন আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে তার ভাই আবদুল আজিজ খোকন দাবি করেন, তার ভাই রাজ্জাক চেয়ারম্যান এলাকায় নেই। এই হামলার সঙ্গে তিনি, তার ভাই এবং তাদের কোনো অনুসারী জড়িত নয়।

তার দাবি, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল গণির নির্দেশে তার ভাই কামাল, বেলাল, নবী ও হেলাল মেম্বার প্রথমে চরএলাহী বাজারে ককটেল হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আমাদের কয়েকজন অনুসারীকে বেধড়ক মারধর করে।

আবদুল আজিজ বলেন, একপর্যায়ে তারা আমাদের অনুসারী ধনু নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। আরও কয়েকটা বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে। আমাদের তিনজন আহত হন।

আহতরা হলেন- মহরম আলী চেয়ারম্যানের ছেলে রিয়াদুল ইসলাম রাজু (২৮), মো. সামছুল হকের ছেলে আবদুর রহিম (২০) ও গোলাম মাওলার ছেলে মো. রানা (২০)।

কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, পুলিশ হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।