‘গ্রামে লতাপাতা খেয়ে হলেও বেঁচে থাকতে পারব’

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২১ | আপডেট: ১০:১৪:অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২১
‘গ্রামে লতাপাতা খেয়ে হলেও বেঁচে থাকতে পারব’

রবিবার দিনভর নারায়ণগঞ্জের মহাসড়কে ঘরে ফেরা মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। কিছুতেই থামান যায়নি জনস্রোত। সোমবার (২৮ জুন ) থেকে সারা দেশে লকডাউন আর ১ জুলাই থেকে সর্বাত্মক লকডাউনের সিদ্ধান্তের পর শুরু হয়েছে শহর ছেড়ে গ্রামে যাওয়ার হিড়িক। যেভাবেই হোক বাড়িতে যেতে হবে, সবার মনোভাবই এমন।

জানা গেছে, বর্তমানে দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও গ্রামে ফিরতে যেন বাধ্য অনেকে। যে কারণে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের (নারায়ণগঞ্জে) সাইনবোর্ড, শিমরাইল চিটাগাং রোডে দেখা গেছে  মানুষের ঢল। পায়ে হেঁটে, কোলে শিশু হাতে ব্যাগ নিয়ে ছুটছে মানুষ গ্রামে। কখনো অটোরিকশায়, কখনো সিএনজি আবার কখনো বাসে- যে যেভাবে পারছে বাড়ি ফিরছে।

কুমিল্লার পথযাত্রী শনির আখড়ার এলাকার বিদ্যুৎমিস্ত্রি সানোয়ার হাসান জানান, লকডাউনে কাজ বন্ধ থাকবে। দোকান খুলতে পারব না। কাজ না থাকলে টাকা কোথায় পাব? আর টাকা না থাকলে খাব কী? এর চেয়ে ভালো যেভাবেই হোক দেশের বাড়িতে গিয়ে লতাপাতা খেয়ে হলেও বেঁচে থাককে পারব। নদীতে মাছ ধরতে পারব। সেখানে সবজির দামও কম। এই শহরের কয়দিন মানুষ সহায়তা করবে?

একই সুরে কথা বলেন আড়াইহাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া কবির মিয়া। তিনি বলেন, কালাপাহাড়িয়া যাচ্ছি। সেখানে ক্ষেত আছে, পুকুর আছে। কোনোরকম চাল কিনে খেয়ে বেঁচে থাকব। এখানে শহরের লকডাউনে সব জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। কিছু না পেলেও হেঁটে হেঁটে গ্রামে চলে যাব। না খেয়ে মরতে হবে না।

সরেজমিন রবিবার (২৭জুন) দুপুরে সাইনবোর্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিচ্ছিন্নভাবে বাস না পেয়ে লেগুনা, পিকআপ ভ্যানে গাদাগাদি করে গন্তব্যে রওনা দিয়েছেন যাত্রীরা। প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ভাড়া করে মোবাইল কোর্ট বা পুলিশি ঝামেলা এড়াতে সেখানে প্রায় অনেকের হাতেই রয়েছে প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার কাগজপত্র।  অনেক পরিবারকে অ্যাম্বুলেন্সে করে শিশুসহ বাড়িতে যেতে দেখা গেছে। বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে ট্রাকও যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।

এক যাত্রী জানান, তিনি চাঁদপুর যাবেন। ট্রাকে করে দাউদকান্দি নেমে যাবেন। সেখান থেকে আবার রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে আরেকটি পরিবহন পেলে সেটায় উঠবেন। এভাবে ভেঙে ভেঙে বাড়ি পৌঁছাবেন।

এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, সারা দেশে লকডাউনের ঘোষণা আসায় যাত্রীদের চাপ বেড়ে গেছে। লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশ তৎপর রয়েছে।