তজুমদ্দিনে ঘাটে পন্টুনের সংযোগ সড়ক না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি

প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২১ | আপডেট: ৫:৫২:অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২১
তজুমদ্দিনে ঘাটে পন্টুনের সংযোগ সড়ক না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি

ভোলার তজুমদ্দিনে শশীগঞ্জ স্লুইজঘাটে পন্টুনের সাথে সংযোগ সড়ক না থাকায় তজুমদ্দিন থেকে রাজধানী ঢাকা, পাশ্ববর্তী উপজেলা মনপুরাসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে নদীপথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে। প্রতিদিন শত শত যাত্রীর এমন ভোগান্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন শশীগঞ্জ স্লুইজঘাটটি বিআইডব্লিউটিএ ইজারা দিলেও যাত্রীদের উঠা-নামা করার জন্য ভালো কোন পন্টুন ছিলনা এখানে। বর্তমানে ভোলা-৩ আসনের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের প্রচেষ্টা বিআইডব্লিউটিএ চলতি বছরের প্রথম দিকে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস কে এন্টারন্যাশনাল ঢাকা একটি অত্যাধুনিক পল্টুন নির্মাণ করেন। কিন্তু পন্টুনটির সাথে সংযোগ সড়ক না থাকায় যাত্রীরা সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যে কারণে এই রুটে চলাচলকারী যাত্রী পড়ছেন ভোগান্তিতে।

নদীতে জোয়ারের সময় হাটু পানি দিয়ে যাত্রীদের উঠা নামা করতে হয় পন্টুনে। পন্টুনে উঠার বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় যাত্রীদের এই ভোগান্তি যেন নিত্য চিত্র। এমন অবস্থায় সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগের শিকার হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা। বিআইডব্লিউটিএ পন্টুনের সাথে একটি মাটির সড়ক করলেও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের চাপে সেটিও নদীর গর্ভে চলে যায়।

বর্তমানে সেখানে সড়ক না থাকায় রাজধানী ঢাকা, মনপুরা, চরমোজাম্মেল, চর জহির উদ্দিন, চর নাসরিন, চর কলাতলীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে যাতায়াতকারী শত শত যাত্রী প্রতিদিন পড়ছেন অবর্ণনীয় দূর্ভোগে। এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, বিচ্ছিন্ন উপজেলা মনপুরার সাথে ভোলা জেলা সদরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম শশীগঞ্জ স্লুইজঘাটটি। বর্তমানে এর সংযোগ সড়কটি না থাকায় এই রুটে চলাচল করা যাত্রীদের প্রতিদিন ভোগান্তির শেষ নেই। দ্রুত সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংগযোগ সড়কের ব্যবস্থা না করতে পারলে নব-নির্মিত এই পন্টুনটি অকেজো হয়ে পড়বে।

ঢাকাগামী যাত্রীরা বলেন, শশীগঞ্জ স্লুইজঘাটের পন্টুনের সাথে সড়ক না থাকায় আমরা বেশি টাকা ব্যয় করে লালমোহন উপজেলা মঙ্গল সিকদার ঘাট ও বোরহানউদ্দিনের মির্জাকালু ঘাট দিয়ে যেতে হয়। এতে আমাদের একদিকে সময় নষ্ট হয় অন্যদিকে অনেক বেশি টাকা খরচ হয়। তাই আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানাচ্ছি দ্রুত সময়ে এই সংযোগ সড়কটি নির্মাণের।

এ বিষয়ে ঘাট ইজারাদার মোঃ সবুজ তালুকদার বলেন, আমাদের মাননীয় এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের প্রচেস্টা বিআইডব্লিউটিএ একটি অত্যাধুনিক পন্টুন নির্মাণ করে। যাত্রীদের দূর্ভোগের বিয়টি মাথায় রেখে একটি মাটির সড়ক নির্মাণ করে কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় জোয়ারের পানিতে মাটির রাস্তাটি নদীতে চলে যায়।

বিআইডব্লিইটিএ এর সহকারী পরিচালক ও ভোলা বন্দর কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, বিআইডব্লিইটিএ’র অর্থায়নে পন্টুনটি নির্মাণর পর পন্টুন ও বেড়িবাঁধের মাঝে একটি মাটির সড়ক নির্মাণ করা হয়। পরে সেটি ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় জোয়ারের পানির চাপে নদীতে চলে যায়। আগামী বছর সংযোগ সড়কটি আরসিসি’র ঢালাই দিয়ে নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছেন বিআইডব্লিইটিএ’র।