বোরহানউদ্দিন খাদ্য গুদামে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮:০২ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২১ | আপডেট: ৮:০২:অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২১
বোরহানউদ্দিন খাদ্য গুদামে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ

ভোলার বোরহানউদ্দিন খাদ্যগুদামে ধান ক্রয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। লটারি মাধ্যমে কৃষক নির্বাচিত হয়েও ধান দিতে না পেরে ক্ষুদ্ধ কৃষকরা। আর এসকল অভিযোগের তীর উঠেছে ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মহিমা আক্তার ও তার স্বামী মো. বেল্লাল এর বিরুদ্ধে। সরকার কৃষকদের জন্য মহতি উদ্যোগ নিলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারনে তার সুফল পাচ্ছে না কৃষক। তাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এর সাথে জড়িতদের বিচার দাবী সহ লটারীতে নির্বাচিতরা যাতে ধান দিতে পারে তার ব্যবস্থার দাবী জানান ভুক্তভোগী কৃষকরা।

সূত্রমতে জানা যায়, সরকার মন প্রতি ১০৮০ টাকা করে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ১৩শত ৬৬ মেট্রিক টন ধান কৃষক হতে ক্রয় করার উদ্যোগ নেয়। কৃষক হতে অনলাইনে আবেদন গ্রহন করে তা লটারী দেন। প্রথম ধাপে ৪১৩ জন ও দ্বিতীয় ধাপে ২১৩ জন কৃষক লটারী মাধ্যমে ধান দিতে পারবে বলে নির্বাচিত হন। ওই লটারীতে যাদের নাম আছে তারা অনেকেই ধান দিতে পারেনি।

তারা ধান দিতে চাইলেও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মহিমা আক্তার জানান ধান ক্রয় করা হয়ে গেছে এখন আর নেয়া যাবে না। তবে এ ধান ক্রয়ে অনিয়মে নেতৃত্বে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মহিমা আক্তারের এর স্বামী মো. বেল্লাল হোসেন এর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী একাধিক কৃষকরা জানান, আমরা লটারীর মাধ্যমে ধান দিতে পারবো বলে নির্বাচিত হয়েছি। ধান দেয়ার জন্য খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মহিমা আক্তারের কাছে আসলে তিনি বলেন ধান ক্রয় হয়ে গেছে। আপনারা দেরিতে আসলেন কেনো। কৃষক বলেন, আমাদের কাছে যে ম্যাসেজ এসেছে আগামী মাসের ৭ জুন পর্যন্ত ধান দিতে পারবো। ধান শুকানো শেষ বস্তার জন্য এসে শুনি ধান কিনা শেষ আমরা এখন এ ধান কি করবো।

তারা আরোও বলেন, টাকা দিয়ে কম্পিউটার হতে আবেদন করেছি। সময় টাকা সব নষ্ট হলো। আমরা প্রকৃত অনেক কৃষকরা ধান দিতে পারিনি। আর এ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার স্বামী মো. বিল্লাল হোসেন কিছু ব্যবসায়ীর সাথে সখ্যতা করে অনেক টন ধান দেয়। সরকার আমাদের ন্যায্যা দাম পাওয়ার জন্য উদ্যোগ নিলেও অসাধু কর্মকর্তাদের কারনে আমরা তার সুফল পাচ্ছি না।

কৃষকরা আরোও জানান, যারা ধান দিতে পেরেছে তাদের কাছ হতে ১শত বস্তায় ৩ হাজার হতে ৫ হাজার টাকা করে জামানত হিসাবে নিচ্ছে এ কর্মকর্তা। এছাড়া বস্তায় ৪০ কেজি ধানের পরিবর্তে নিচ্ছে ৪২ হতে ৪৩ কেজি। বিল না পাওয়ার ভয়ে কেউ এ কর্মকর্তার অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না বলে জানান তারা।

তারা আরোও দাবী করেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত লটারী পাওয়া কৃষকরা যাতে সরকারি সুফল পায় তার ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তারা আরোও জানান, সাচড়া ইউনিয়নে কয়েক জন কৃষক ৩০ টন ধান দিতে পারবে বলে নির্বাচিত হন। তাদের কাছ হতে ১৬ টন ধান নিয়ে এ খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা বলেন ধান ক্রয় হয়ে গেছে আপনাদের কাছ হতে আর ধান নেয়া যাবে না।

উপজেলার কুতুবা ৮নং ওয়ার্ডের কৃষক বিশ্বজিৎ অভিযোগ করে বলেন, দিলিপ, অপুরক্ষিত সহ লটারীর মাধ্যমে ৩ জনে ৯ টন ধান দেয়ার জন্য নির্বাচিত হই। ধান দিতে আসলে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মহিমা বলেন, ধান ক্রয় করা হয়ে গেছে। তিনি আরোও জানান, আমাদের ধান দেয়ার তারিখ ৭ জনু পর্যন্ত রয়েছে। কৃষকরা অনেক হয়রানী হচ্ছে। দেখার কেউ নেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ওমর ফারুক জানান, লটারীতে নির্বাচিত হওয়া কিছু কৃষক এসে আমার কাছে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেছে তারা ধান শুকিয়ে ধান দিতে এসেছে কিন্তু খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা বলছে নাকি ধান ক্রয় শেষ হয়ে গেছে। কৃষকরা আমার কাছে তাদের ক্ষতির কথা তুলে ধরেন। আমি এ বিষয়গুলো উপজেলা নির্বাহি স্যারকে অবহিত করেছি।

এ ব্যাপারে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মহিমা আক্তার তার এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লটারীতে নির্বাচিত ছাড়াও যে কৃষক আগে ধান নিয়ে এসেছে তাদের কাছ হতে ধান ক্রয় করেছি। কারণ দ্রুত ধান ক্রয় সম্পূর্ণ করতে হবে। অদ্যবধি ১২শত মেট্রিক টনের বেশি ধান ক্রয় করা হয়েছে।

ধান বেশি নেয়ার ব্যাপারে বলেন, ধান উঠাতে নামাতে এবং বস্তার ওজন হিসাবে বেশি নেয়া হচ্ছে। বস্তার জন্য টাকার ব্যাপারে বলেন, আগের অফিসারের নিয়মেই বস্তার জন্য টাকা জামানত হিসাবে রাখা হয়। পরবর্তীতে এগুলো দিয়ে দিব। আর তার স্বামীর ব্যাপারে বলেন, যখন আমার কোন স্ট্যাপ অসুস্থ্য থাকে তখন সে একটু সহযোগিতা করে এবং কৃষকরা আসলেও তাদের কে সহযোগিতা করেন। এটাকি তার অপরাধ। আমাকে হয়রানী করার জন্য এসকল অভিযোগ তুলছেন তারা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো. সাইফুর রহমান বলেন, কৃষি অফিসার কিছু কৃষকদের মৌখিক অভিযোগের কথা বলেছে। যদি কৃষকরা সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।