তাপদাহে পুড়ছে রবিশষ্য, বৃষ্টির অপেক্ষায় চাষিরা

সোহেব চৌধুরী সোহেব চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২১ | আপডেট: ৪:২৬:অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২১
তাপদাহে পুড়ছে রবিশষ্য, বৃষ্টির অপেক্ষায় চাষিরা

বৈশাখের তাপদাহে রবি ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে চরফ্যাসন উপজেলায়। এ বছর উপজেলায় ১৫ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে চিনাবাদাম, মরিচ, খেশারী, মুগ, মসুর ও ফেলন ডালসহ অন্যান্য রবিশষ্যের আবাদ করা হয়েছে।

গত তিন মাস ধরে বৃষ্টি না থাকায় অনাবৃষ্টিতে প্রচন্ড তাপদাহের চাপ পড়েছে রবি ফসলের ক্ষেতে। যার ফলে ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে চাষিদের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, খাল, বিল, পুকুর ও জলাশয়ের পানি সংকটে মজিবনগর, নজরুল নগর, চরমাদ্রাজসহ একাধীক গ্রামে চিনা বাদাম, মুগ, ফেলন, মুসুরী, খেশারী ও মরিচ ক্ষেতের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। প্রচন্ড তাপদাহে অনেক ক্ষেতের ফসল পুড়ে গেছে।

চরমাদ্রাজ গ্রামের কৃষক মোঃ আলম মিয়া বলেন, ১৮ শতাংশ জমিতে মুগডাল চাষ করেছিলাম তাপদাহে নষ্ট গেছে। তিনি আরো বলেন, পানির অভাবে সবজি আবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। একই এলাকার জসিম ও মনির বলেন, প্রচন্ড রোধের তাপে সব পুড়ে চৌচির হয়ে গেছে।

নজরুলনগর ইউনিয়নের পশ্চিম বাকলাইয়া গ্রামের বাচ্চু মিয়া বলেন, ২৫ শতাংশ জমিতে বাদাম চাষ করেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় রোধে পুড়ে গেছে।

তেতুলিয়া নদী পাড়ের সিকদারচর গ্রামের কৃষক হাবিবুল্লাহ বলেন, ৩০ শতাংশ জমিতে মুগডাল চাষ করেছি। গাছ ভালো হয়েছিল কিন্তু প্রচন্ড তাপে ফলন হয়নি, এ বছর মূলধনই ফিরে পাবোনা।

ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের পাঙ্গাইসা গ্রামের ফয়সাল বলেন, প্রচন্ড তাপে মাঠের শাকসবজি পুড়ে তছনছ হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, গরমে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছে। ১০ শতাংশ জমিতে চিনা বাদাম চাষ করেছিলাম কিন্তু গরমে বাদামগাছ পুড়ে গেছে।

চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি অফিসার আবু হাসনাইন বলেন, প্রচন্ড তাপদাহে মাটির পানি শুকিয়ে ক্ষেতে লবনাক্ততা দেখা দেয়ায গাছ পুড়ে যাচ্ছে।