অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি তারুয়া দ্বীপ

প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২১ | আপডেট: ৫:৩২:অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২১
অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি তারুয়া দ্বীপ

দ্বীপ জেলা ভোলার সর্ব দক্ষিণে রয়েছে চরফ্যাসন উপজেলা। চরফ্যাসন উপজেলার মধ্যে রয়েছে চর মানিকা, চর নিজাম, চর পাতিলা, চর কুকুরী-মুকরী ও ঢালচরসহ অসংখ্য চর। এসকল চরগুলোর মাঝে রয়েছে তারুয়া দ্বীপ। যার মাঝে লুকিয়ে আছে অপরুপ সৌন্দর্যের সমারোহ। স্ব-চোখে না দেখলে বুঝাই যাবেনা সৌন্দর্যর এই লীলাভূমি। তা সমুদ্রসৈকতও বটে। তবে সেখানে গড়ে উঠেনি মানুষের বসবাস।

চরফ্যাসন শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটর দূরে তারুয়ার অবস্থান। শহর থেকে কিছু দূর পাকা সড়কের পর নদী পথে যেতে হয় তারুয়া দ্বীপটিতে। প্রতিদিন ভিড় করতে থাকেন পর্যটকরা, উপভোগ করেন সেখানকার নানা জাতের পাখিদের কলকাকলি, বিভিন্ন প্রাণী আর সাগরের উত্তাল ঠেউয়ের গর্জন। প্রকৃতি নিজ হাতে তারুয়া দ্বীপটিকে সাজিয়ে তুলেছেন।

দ্বীপটিতে হরিণ, শিয়াল, বনবিড়াল, ও সাপসহ রয়েছে বৈচিত্র্যময় প্রাণী। এমনকি সেখানে দেখা মিলবে চকচকে সাদা বালি আর লাল কাঁকড়ার লুকোচুরি। পাশাপাশি দেখা মিলবে সুর্যোদয় ও সুর্যাস্তের অপরুপ দৃশ্য। সবুজ বৃক্ষের সমারোহ আর পাখিদের কলরবে মুখরিত তারুয়া দ্বীপ পর্যটন এলাকা হিসেবে গুরুত্বের দাবি রাখে।

তারুয়া দ্বীপটিতে সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক অপরুপ সৌন্দর্যের কথা আমাদের অনেকের অজানা। ঢালচরের ম্যানগ্রোভ বনের মধ্যে তারুয়ার বন অন্যতম। এই তারুয়া বনে রয়েছে গেওয়া, গড়ান, কেওড়া, বাইন, রেইন্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ। শীতের মৌসুম এলেই এখানে দেখা মিলবে হাজার হাজার পাখির।

ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, তারুয়া দ্বীপে পর্যটকদের জন্য ব্যাক্তি মালিকানায় তিন চারটি টিনসেট ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যটকরা কম খরচে এই ঘরগুলোতে রাত্রিযাপন করতে পারবে, তাছাড়া অধিক সংখ্যক লোক হলে এখানে তাবু করেও থাকতে পারবেন। রাতের আধারকে আলোকিত করতে সৌরবিদ্যুতের লাইট লাগানো হয়েছে।

দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইনচার্জ হারুন অর রশিদ বলেন, পর্যটকদের জন্য তারুয়া দ্বীপে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ঢালচর ইউনিয়নে একটি পুলিশ ফাড়ি স্থাপন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন জানান, চরফ্যাসনে প্রচুর পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ পর্যটন এলাকাগুলোতে প্রাকৃতি পরিবেশ রয়েছে। এসব দ্বীপগুলোকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।