দক্ষিণ আইচায় বাণিজ্যিকভাবে কুচিয়া চাষ

এম আবু সিদ্দিক এম আবু সিদ্দিক

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৯:২২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০১৯ | আপডেট: ৯:২২:অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০১৯
দক্ষিণ আইচায় বাণিজ্যিকভাবে কুচিয়া চাষ

চরফ্যাসন উপজেলার দক্ষিণ আইচার চর হরিশ গ্রামের ১০ পরিবার শুরু করেছে বাণিজ্যিকভাবে কুচিয়া চাষ। ময়মনসিংহ থেকে পোনা এনে ১০টি খামারে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু চাষিদের।

পল্লী উন্নয়ন সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক সহায়তায় বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান পরিবার উন্নয়ন সংস্থা চরফ্যাসন এর বাস্তবায়নে ৫ মাস পূর্বে প্রকল্পটি শুরু হয়। এরই মধ্যে চরফ্যাসনে ব্যপক আলোরণ সৃষ্টি করেছেন এই কুচিয়া চাষ। কুচিয়া চাষের জন্য চর হরিশকে কুচিয়া পল্লী নামে ডাকা হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, চরফ্যাসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১০ পরিবার আলাদা আলাদা ১০টি খামার তৈরী করে। ২০ ফুট দৈর্ঘ্য, ১০ ফুট প্রস্ত এবং সাড়ে ৩ ফুট উচ্চতায় খামার গুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী কুচিয়ার পোনা ছাড়া হয়েছে। বর্তমানে স্বল্প আকারে বিক্রি করলেও কিছু দিনের মধ্যে বড় ধরনের কুচিয়ার চালান ঢাকা পাঠানো হবে বলে জানান চাষিরা।

কুচিয়া চাষি কমল কুলু জানান, আমাদের এই কুচিয়া চাষাবাদ দেখে চরফ্যাসন উপজেলার অনেক বেকার যুবক, কলেজ ছাত্র খামার তৈরীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমি আশাকরি খামারের কুচিয়া রপ্তানি করে পরিবারের অর্থের চাহিদা মিটিয়ে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবো।

চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত ডাঃ মাহবুব কবির বলেন, কুচিয়া অনেক সু-সাদু খাবার, শরীরের রক্ত শুন্যতা, ডায়াবেটিস, বাত, অ্যাজমা ও ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে। কুইচ্চা খেলে হৃদপিন্ড সুরক্ষা হয় এবং স্টোক হওয়ার প্রবনতা ১৩ শতাংশ কমে যায়। ভক্ষনযোগ্য প্রতি ১শ গ্রাম কুচিয়া প্রায় ১৭.৭ গ্রাম প্রোটিন, ০.৮ গ্রাম চর্বি, ২.৪ গ্রাম কার্বহাইড্রেট, ১ হাজার ৪শ মাইক্রো গ্রাম ভিটামিন ১শ ৮৫ গ্রাম ক্যালসিয়াম রয়েছে।

চরফ্যাসন খাসমহল জামে মসজিদের ঈমাম মাওলানা রফিকুল ইসলাম এর নিকট কুচিয়া খাওয়ার ইসলামিক বিধান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জলজ প্রানিদের মধ্যে আমাদের জন্য মাছ কে বৈধ করা হয়েছে। আমাদের প্রচলনে কোনটি মাছ নয় তা সকলেরই জানা আছে। কুচিয়া, কাঁকড়া ও ফুটকা মাছ নয়। বাংলাদেশে প্রায় ৭৬ প্রজাতির মাছ রয়েছে। কুচিয়া তাদের অন্তর্ভূক্ত নয়। মুসলমানদের জন্য কুচিয়া অখাদ্য।

চরফ্যাসন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মারুক হোসেন মিনার বলেন, আমি চর হারিশ গ্রামের ১০ পরিবারের কুচিয়া খামারগুলো পরিদর্শন করেছি। চাষিদেরকে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য একাধিক বার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ উপজেলার যে কেউ কুচিয়া চাষাবাদে আগ্রহী হলে আমরা সকল প্রকার সহযোগিতা করবো। চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এই অঞ্চলের দুস্থ পরিবারগুলো স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি বেকারত্ব কমবে এবং দেশ আয় করবে অভাবনীয় বৈদেশিক মুদ্রা।