চরফ্যাসন সড়কে মৃত্যুর মিছিল, দায় কার?

আমিনুল ইসলাম আমিনুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১:৫২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২১ | আপডেট: ১:৫২:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২১
চরফ্যাসন সড়কে মৃত্যুর মিছিল, দায় কার?

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু এখন যেন কোনও খবরই নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব দুর্ঘটনার ব্যাপারে আইনগত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনায় কুকুর-শিয়ালের মৃত্যু হলে যতটা শোরগোল হয়, তার ছিটেফোঁটাও হয় না মানুষের মৃত্যুতে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হবে−এটাই তো স্বাভাবিক। কাজেই এ নিয়ে কথা বলার তো কিছু দেখি না। অথচ কী নির্মম এ ভাবনা! প্রায় প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। ফলে পরিবারের ভবিষ্যৎ হয়ে উঠছে অনিশ্চিত। তবু, এক্ষেত্রে প্রতিরোধের সমন্বিত কোনও উদ্যোগ নেই। গত তিনদিন ধরে ভোলার চরফ্যাসন সড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল।

এ যেমন ভোলার চরফ্যাসন উপজেলায় গত তিনদিনে কাভার্ডভ্যান, মোটরসাইকেল, ট্রাক, বোরাক ও ব্যাটারি চালিত রিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ছয়জন।

রবিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১টার সময় চরফ্যাসন পৌরসভার বিআরডিবি মোড়ে সড়ক দুর্ঘটন নিহত হয়েছেন আশরাফুল আলম টুলু (৪০) নামের এক ইউপি সদস্য। তিনি লালমোহন পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা মাহে আলমের ছেলে।

সোমবার (১১ জানুয়ারি) দুপুর সারে ১২টার সময় চরফ্যাসন কাশেমগঞ্জ বাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন প্রধান শিক্ষক মাওলানা মোঃ এরশাদ আলী (৫৮)। তিনি চরফ্যাসন উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) রাত ৮টার সময় চরফ্যাসন উপজেলার শশিভূষণ মালেক মাওলানা হুজুরের মাদরাসার সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মোঃ সেলিম (৪০)। তিন তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়ন ২নং ওর্ডের বাসিন্দা।

এছাড়াও গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১ টার পর চরফ্যাসন বাজার থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ব্যবসায়ি হাবিবুর রহমান (৩৫)। তিনি চর মাদ্রাজ ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ড দক্ষিণ নাজিমুদ্দিন মজিবল মিয়ার ছেলে।

আসলে সড়ক পথে দেশের প্রচলিত অনেক আইনই মানা হচ্ছে না। আইনে আছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়ক পথে নামানো যাবে না। অথচ ফিটনেসবিহীন গাড়ি অবাধে সড়কপথে চলাচল করছে। যাত্রাপথে একটি নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চালানোর নির্দেশ আছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই নির্দেশ মানা হয় না। বরং কে কাকে ওভারটেক করে কত দ্রুত গন্তব্যে যেতে পারবেন, এই প্রতিযোগিতায় মেতে থাকেন অনেক ড্রাইভার।

কিন্তু প্রতিদিন যে অসংখ্য প্রাণ ঝরে পড়ে সড়কে তার খোঁজ কে রাখে! তার কয়টিই বা সংবাদ মাধ্যমে আসে? কয়জন নিহতের পরিবার আদালতের নির্দেশে আর্থিক সহায়তা পান? সবার অলক্ষ্যে যে অসংখ্য প্রাণ সড়কে ঝরে যায় প্রতিদিন বেআইনি ভাবে চলা পরিবহন ও তার লাইসেন্সবিহীন চালকদের হাতে তার দায় কে নেবে? সড়কে এ মৃত্যুর মিছিল, এ হত্যার উৎসব কি চলতেই থাকবে!