‘অনিচ্ছাকৃত’ হামলায় নিহতদের পরিবারকে কোটি টাকা করে দেবে ইরান

প্রকাশিত: ৩:১২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০ | আপডেট: ৩:১২:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০
‘অনিচ্ছাকৃত’ হামলায় নিহতদের পরিবারকে কোটি টাকা করে দেবে ইরান

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের হাতে ভূপাতিত যাত্রীবাহী বিমানের নিহত ১৭৬ জন আরোহীদের প্রতিজনের পরিবারকে দেড় লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে দেশটি। খবর বিবিসি।

এর আগে ইউক্রেন এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানায়।

গত জানুয়ারিতে তেহরান থেকে উড্ডয়নের পরপরই ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৩৭ বিমানটিতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। প্রথমদিকে দায় অস্বীকার করলেও পরে ইরান স্বীকার করে যে ইউআইএ-এর ফ্লাইটটি ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ ভূপাতিত করেছে।

এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ইরানের ৮২ জন, কানাডার ৬৩ জন, ইউক্রেনের ১১ জন নাগরিক ছাড়াও ৯ জন ক্রু, আফগানিস্তানের ৪ জন, ব্রিটেনের চার এবং জার্মানির তিন নাগরিক ছিলেন।

সেসময় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উচ্চ সতর্কতায় ছিল। এর কয়েক ঘণ্টা আগে, মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ে দেশটি।

এক বিবৃতিতে ইরানের সরকার জানায়, যত দ্রুত সম্ভব তারা ক্ষতিপূরণ দেবে।

বুধবার তেহরান বলেছে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদনে জড়িত ছিল ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, কানাডা, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে যে ক্ষতিপূরণের অর্থ আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী সমঝোতার মাধ্যমে আসা উচিত এবং এর সঙ্গে জড়িতদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত।

চলতি মাসের শুরুর দিকে কানাডার এক প্রতিবেদনে এ ঘটনার তদন্তে ইরানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সেখানে বলা হয়, অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যেমন হামলায় কারা জড়িত ছিল তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি, এ ছাড়া ৮ জানুয়ারি রাতে কেন ইরানের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করা হলো না সেই প্রশ্নেরও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

এ ফ্লাইটে থাকা যাত্রীদের পরিবারের সংগঠনের মুখপাত্র হামিদ এসমাইলিয়ন বলেন, নিহতদের পরিবারের সদস্যরা চায় যে, এ ঘটনায় জড়িতদের স্বতন্ত্র আদালতে বিচার হোক এবং ঘটনার জবাবদিহিমূলক তদন্ত করা হোক।